Last Updated:
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কাছে সম্পর্কের কোনও মূল্যই নেই। সম্পর্ক ভাঙল কি জুড়ল, তাতে তাঁদের কিছুই আসে-যায় না। পড়শি দেশ চিনে এমনই একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।

কথায় বলে যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ভরসা, বিশ্বাস এবং স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক। কিন্তু এই উপাদানগুলি না থাকলে সেই সম্পর্ক ভঙ্গুর হয়ে যায়। অর্থাৎ দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে সততা না থাকলে তা ভাঙতে বেশি সময় লাগে না। যদিও পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কাছে সম্পর্কের কোনও মূল্যই নেই। সম্পর্ক ভাঙল কি জুড়ল, তাতে তাঁদের কিছুই আসে-যায় না। পড়শি দেশ চিনে এমনই একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ব্যক্তি এমন খেলা খেলেছে যে, তিনি একইসঙ্গে ৫ জন মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অথচ মেয়েগুলির মধ্যে কেউই জানতে পারেননি যে, তাঁদের সকলের সঙ্গীই একজন। আর সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, একই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা ওই ৫ জন মহিলা। অথচ তাঁরা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি যে, চার বছর ধরে তাঁদের সকলকে ঠকাচ্ছে একজনই।
আরও পড়ুন– ‘…আসবেন না’, বিয়ের কার্ডে স্পষ্ট বার্তা বরের, ভাইরাল ছবি, নেটিজেনরা বলছেন, ‘ঠিক করেছেন’
ওই ব্যক্তি আদতে জিলিন প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর বাবা নির্মাণকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। আর মা ছিলেন স্নানাগারের অ্যাটেন্ড্যান্ট। চরম আর্থিক অনটনের জেরে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল তাকে। তবে নিজেকে ধনী হিসেবেই প্রতিপন্ন করতে চাইত সে। এরপর এক মহিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেমিকাকে দামি উপহারও দিত সে। এভাবে ওই প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ে হয় তাদের। এরপর স্বামীর স্বরূপ জানার পরে তাকে বাড়ি থেকে বার করে দেন মহিলা।
এর এক সপ্তাহের মধ্যেই একই কায়দায় আবারও আর এক মহিলাকে ফাঁসায় ওই ব্যক্তি। বাড়ি নতুন করে সাজানোর নাম করে মহিলার থেকে ১৬.৫ লক্ষ টাকা ধার করে সে। শুধু তা-ই নয়, যে বিল্ডিংয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রী থাকতেন, সেখানেই একটি বাড়ি ভাড়া করে ওই ঠগ। সেখানেই সে নিজের অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে রাখে।
এভাবে আরও মহিলাদের ফাঁসানোর জন্য টাকা খরচ করছিল সে। এরপর ওই একই বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রী এবং নার্সকে কবজা করে ওই ব্যক্তি। তাঁদের কাছ থেকে ১.৭ লক্ষ, ১.১৮ লক্ষ এবং ৯৪ হাজার টাকা আদায় করে সে। এঁদের মধ্যে এক মহিলা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে ওই ব্যক্তি তাকে জাল নোটে ঠাসা একটি ব্যাগ ধরিয়ে দেয়। অবশেষে যখন এই বিষয়ে পুলিশে ওই মহিলা অভিযোগ জানান, তখন ওই প্রতারকের আসল সত্যিটা ফাঁস হয়ে যায়।
এদিকে ওই মহিলার স্ত্রী এবং দ্বিতীয় প্রেমিকা নিজেদের বাচ্চাদের বাইরে হাঁটাতে নিয়ে গিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁদের সঙ্গী একজনই। ইতিমধ্যেই আদালত অবশ্য প্রত্যেকের টাকা ফেরত দিয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তির উপর ১৪ লক্ষ টাকার জরিমানা আরোপও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার সাড়ে নয় বছরের জন্য কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
Kolkata,West Bengal
November 07, 2024, 1:47 PM IST
একজন স্ত্রী এবং ৪ জন প্রেমিকা একই বিল্ডিংয়ে থাকতেন, অথচ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি নিজেদের সঙ্গীর রহস্য; তারপরে যা হল…



