অনুকূল আবহাওয়া আর উত্তম পরিচর্যায় করলার বাম্পার ফলন হয়েছে মানিকগঞ্জে। অল্প ব্যয়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় দিন দিন করলা চাষে ঝুকছে জেলার কৃষকেরা। রাজধানীর সঙ্গে জেলার যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত। যে কারণে কৃষকদের জমি থেকেই করলা ক্রয় করছে পাইকারেরা। রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদাও রয়েছে মানিকগঞ্জের করলার। বাজারদর ভালো থাকায় এবার করলা চাষে লাভবান মানিকগঞ্জের কৃষকেরা।
জমি তৈরি, বীজ বিপন, মাচাইল নির্মাণ ও কীটনাশক প্রয়োগসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি শতাংশ জমিতে কৃষকর ব্যয় হয় প্রায় হাজার টাকা। মাত্র ৪৫ দিন বয়স থেকেই করলা গাছে আসতে শুরু করে ফলন। ৫/৬ দিন অন্তর অন্তর পরবর্তী ৪৫ দিন বা তারও কিছু বেশি সময় পর্যন্ত করলার ফলন পায় কৃষক। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি শতাংশ জমি থেকে তিন থেকে চার হাজার টাকার করলা বিক্রি করা যায় অনায়াসে।
চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলার মোট ৬২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ জাতের করলার আবাদ করেছে কৃষকেরা। প্রতিটি উপজেলাতেই কম-বেশি করলার আবাদ হলেও মোট জমির প্রায় অর্ধেক আবাদ হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়। অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যা থাকলে এসব জমি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯’শ ২০ টন করলা পাওয়ার আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর মকিমপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, নিজেদের ৫০ শতাংশ জমিতে চলতি মৌসুমে করলার চাষ করেছেন তিনি। জমি তৈরি থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ওই জমি থেকে তিনি ৮০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকার করলা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সবজি চাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, করলার ফলন দেওয়া শুরু হলেও নিয়মিত ভিটামিনসহ অন্যান্য কীটনাশক দিতে হয়। করলা চাষে খরচ একটু বেশি। তবে জমির যত্ন নিতে পারলে মুনাফাও ভালো পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষক বাদল হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর মকিমপুর ও আশেপাশের চরাঞ্চলে এক সময়ে শুধু ভূট্টার আবাদ হতো। এখন সে জমিতেগুলোতে করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এবার সবজির বাজারদর ভালো থাকায় মুনাফা একটু বেশি হচ্ছে। তবে সার, বীজ, শ্রমিকের বাজারদরও বেশ চড়া। যে কারণে ফলন পেতে খরচও একটু বেশি। তারপরও চলতি মৌসুমে করলা চাষে তিনি বেশ লাভবান বলে মন্তব্য করেন।
তবে কৃষক অন্তর আলী বলেন, যে সমস্ত কৃষক আগাম করলার আবাদ করেছিলো তারা তিন থেকে চারগুন লাভবান। তবে এখন বাজার নেমে যাওয়ায় দেরিতে করলার আবাদ করা কৃষকেরা তেমন লাভ পাচ্ছে না। তারপরও সবকিছু মিলিয়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার করলা চাষে কৃষকেরা বেশ লাভবান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, এক বিঘা জমিতে করলার চাষ করতে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারদর মোটামুটি ভালো থাকলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ৯৫ হাজার থেকে লাখ টাকার করলা বিক্রি করা যায়। চলতি মৌসুমে জেলায় করলার বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারদর থাকায় কৃষকেরা বেশ লাভবান বলে মন্তব্য করেন তিনি।