জিপিএ ৪.৩৩ পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ | চ্যানেল আই অনলাইন

জিপিএ ৪.৩৩ পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ‘এ’ গ্রেড (জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩) পেয়ে পাশ করেছেন শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ সবুজ মিয়া (১৯)।

১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার এইচএসসি-২০২৪ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষায় সবুজ মিয়া অংশ নিয়েছিল। তার এই রেজাল্টে শিক্ষক-সহপাঠিরা আনন্দিত হলেও সন্তান ও ভাই হারানোর শোকে পরিবারে চলছে বিষাদের কান্না।

GOVT

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট শেরপুর জেলা শহরের খরমপুর এলাকায় আওয়ামী দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সবুজ মিয়া। এরপর থেকেই পরিবারের কারও মুখে হাসি নেই। প্রতিনিয়ত চলছে কান্না আর আহাজারি। মঙ্গলবার এইচএসসি ২০২৪ এর ফলাফল প্রকাশ হলে ফলাফলে দেখা যায়, নিহত সবুজ জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ গ্রেড পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফল শুনে আরও শোকাহত হয়েছে পরিবার।

ছেলের ছবি বুকে নিয়ে মা সমেজা বেগম বলেন, আমার ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে ঠিকই। কিন্তু এ রেজাল্টতো আমাদের কোন কাজে আসবে না। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার করা হোক। আমরা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের রূপারপাড়া গ্রামের প্যারালাইজড রোগী আজাহার আলীর ছেলে ছিলেন এই সবুজ। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবুজ ছিল দ্বিতীয়। বড় বোনটির বিয়ে হওয়ার পরে বাবা প্যারালাইজড হয়। এরপর সবুজ নিজেই পরিবারের দায়িত্ব নেন। পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি দোকানে (ওষুধের ফার্মেসী) কাজ করতেন। যার আয়ে চলতো পাঁচ সদস্যের পরিবার। কিন্তু তাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি।

পরিবার চালানোর পাশাপাশি নিজের আয়ে পড়াশোনা করতেন শ্রীবরদী সরকারি কলেজে। সেখান থেকেই এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ২০২৪ পরীক্ষায় বসেছিলেন। কয়েকটি পরীক্ষা হওয়ার পর হঠাৎ দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারায় মেধাবী ছাত্র সবুজ।

শ্রীবরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম আলিফ উল্লাহ আহসান জানান, নিহত সবুজ একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ৬ সদস্যের সংসারের খরচ বহন করে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে এই রেজাল্ট করা কম কথা নয়। তার এই রেজাল্টে আমরা শিক্ষকরাসহ তার সহপাঠিরাও আনন্দিত। শুধু তার পরিবার সন্তান ও ভাই হারানোর শোকে এ আনন্দ নিতে পারছে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। শোকাহত অসহায় পরিবারের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।

উল্লেখ্য, সবুজ মিয়া হত্যার ঘটনায় তার ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি ছানুয়ার হোসেন ছানু, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, সাবেক পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের চার শতাধিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

Scroll to Top