বিশ্ব দরবারে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি ও রফতানি বাড়াতে প্রতিবছর সরকারিভাবে আয়োজন করা হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। যে মেলার শুরু টা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারেও ঢাকার পূর্বাচলের রূপগঞ্জ এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই মেলার।
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত রোববার (২১ জানুয়ারি) বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসরের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা।
এর আগে শহরের শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হলেও গতবারের ন্যায় জনদুর্ভোগ এড়াতে বাণিজ্য মেলা মূল শহর থেকে রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে শহরের বাইরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কীভাবে যাবেন বাণিজ্য মেলায়? আর যাতায়াতের ব্যবস্থাই বা কি আছে সেখানে যাওয়ার?
রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশে থেকে খুব সহজেই যাওয়া যাবে এবার বাণিজ্য মেলায়। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, উত্তরা, মতিঝিল সব দিক থেকেই খুব সহজে বাণিজ্য মেলায় যাওয়ায় জন্য বাস্তবায়ন করা হয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা। ফলে ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাণিজ্য মেলায় যেতে পারবে সব শ্রেণি পেশার মানুষ।
চলুন জেনে নেই যেভাবে বাণিজ্য মেলায় যাওয়া যাবে:
বিআরটিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কুড়িল বিশ্বরোড, খেজুরবাগান (ফার্মগেট), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসি বাস ছেড়ে যাবে। মেলা শেষে নির্দিষ্ট রুটগুলোতে যাত্রীদের পৌঁছে দেবে বিআরটিসি। প্রতিদিন প্রায় ৬০টি বাস চলাচল করবে এবং ছুটির দিনে প্রায় ২০০ বাস চলাচল করবে এসব রুটে।

এছাড়া মতিঝিল কিংবা উত্তরা বা আব্দুল্লাহপুর থেকে আসা দর্শনার্থীরা বাণিজ্য মেলার পথে এক সাথে কয়েকটি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। মেট্রোরেল ভ্রমণের সুযোগ দ্বিতীয়ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে এবং ৩০০ ফিটের নান্দনিক সড়কের সৌন্দর্য তো থাকছেই।
মতিঝিল বা উত্তরার দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে মেট্রোরেলের মাধ্যমে ফার্মগেট এসে সেখান থেকে বিআরটিসি বাস যোগে যেতে হবে বাণিজ্য মেলায়। ফার্মগেট থেকে বিআরটিসি ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস চলবে মেলার স্থান পর্যন্ত। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাড়ি দিয়ে কোনো বিলম্ব ছাড়াই জনপ্রিয় ৩০০ ফিটের নান্দনিক সড়ক উপভোগ করতে করতেই যেতে পারবেন মেলায়।
এছাড়া রাজধানীর যেকোনো স্থানো থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেল যোগে বিনা বাধায় পৌঁছে যেতে পারেন মেলায়। কেনাকাটার পাশাপাশি উপভোগ করতে পারেন দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাও।
এ বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) বলেন, বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য এবারে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখাব হয়েছে৷ মেট্রোরেলকে ব্যবহার করে উত্তরা-মতিঝিল থেকেও মানুষ আসতে পারবে মেলায়। সে জন্য ফার্মগেট থেকে মেলার স্থান পর্যন্ত বাস সার্ভিস রাখা হয়েছে। এছাড়া কুড়িল থেকেও ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস থাকবে। ফলে সব দিক থেকে নিরাপদে মেলায় যাওয়া যাবে।
উল্লেখ, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা, খেজুরবাগান (ফার্মগেট) থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। নরসিংদী থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ টাকা।
২৮তম ঢাকা বাণিজ্য মেলায় তুরস্ক, চিন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্য শোভা পেয়েছে। এছাড়া দেশীয় জামদানি, নকশিকাঁথা, শো-পিস ও বিলাসবহুল কাপড়ের সমাহার রয়েছে মেলায়। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার স্থান। খাবার ও প্রাত্যহিক জীবনের সকল বস্তুর পসরা আছে এবারের মেলায়।



