বাজারে মাছ কেটে লাখ টাকা জমিয়েছিলেন, পুড়ল আগুনে

বাজারে মাছ কেটে লাখ টাকা জমিয়েছিলেন, পুড়ল আগুনে

‘বাজারে মাছ কাটি, ছেলে নাই, কষ্ট করে ১ লাখ টাকা জমাইছিলাম, শেষ বয়সে অসুখ হলে চিকিৎসা করতাম। বালিশের নিচে রাখছি। সব আগুনে পুড়ে গেছে। চোখে সামনে এক লাখ টাকা পুড়লো বাঁচাইতে পারলাম না।’

অশ্রুসিক্ত চোখে কথাগুলো বলছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব হোসনে আরা বেগম। জীবনের অর্ধেক সময় কাটাচ্ছেন কারওয়ান বাজারের পাশে মোল্লাবাড়ি বস্তিতে। তবে শুক্রবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে মোল্লাবাড়ি বস্তিতে হোসনে আরা বেগমের মাথা গোজার ঠাঁই, সাথে শেষ বয়সের সম্বল হিসেবে নিজের জমানো লাখ টাকা। দাঁড়িয়ে থেকে নিজের টাকা পুড়ে যাওয়া দেখেছেন অসহায় হোসনে আরা।

হোসনে আরার মতো ভয়াবহ এ আগুনে মোল্লাবাড়ির বস্তির ৩০০ পরিবারের ঘর পুড়েছে। পুড়ে গেছে ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে তাকিয়ে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন সম্বল হারানো মানুষগুলো। সেই সঙ্গে ভাবছেন কিভাবে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই বানাবেন।

শনিবার সকালে মোল্লাবাড়ি বস্তিতে কথা হয় পারুল বেগমের সঙ্গে। কাওরান বাজারে মাছ কেটেই চলে তার ৫ সদস্যের সংসার। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো এই নারী বলেন, বাবা ফ্রিজে মাছ ছিল, তেল ছিল চাল ছিল ১ বস্তা সব পুড়ে গেছে। বাচ্চা দুইটা নিয়ে শুধু বের হইছি। আর কিছু বাঁচাইতে পারিনি।

বাজারে মাছ কেটে লাখ টাকা জমিয়েছিলেন, পুড়ল আগুনে

আকবর আলী নামের একজন বলেন, আগুন লাগছে দেখে মেট্রোরেলের শ্রমিকরা আমাগো জাগাইতে শুধু ইট মারতেছিলো চালে। কেউ কিছু বাঁচাইতে পায় নাই।

আয়েশা বেগম নামের একজন বলেন, অসুস্থ জামাইরে নিয়া জীবন বাঁচাইছি। আমাগো মারার জন্য ইচ্ছা করে আগুন লাগায় দিছে। আল্লাহ তুমি দেইখো। আমাগো থাকার ব্যবস্থা কইরা দেন। বাচ্চা নিয়ে কই থাকমু।

এদিকে মোল্লা বাজার বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর সালেহ উদ্দিন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের। সবাই কারওয়ান বাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেশার সাথে জড়িত। আগুনের ভয়াবহতায় তারা বের হওয়ার রাস্তা পান নি। সেদিক থেকে ক্ষতির পরিমাণটাও বেশি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খোঁজার চেষ্টা করছি।

Scroll to Top