৪০ দিনে যুদ্ধ বিজয় খামেনির চিন্তাধারার ফল

৪০ দিনে যুদ্ধ বিজয় খামেনির চিন্তাধারার ফল

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, সত্যের পক্ষের স্থায়ী নিরাপত্তার স্থপতি ও মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পার হয়েছে।

৪০ দিনে যুদ্ধ বিজয় খামেনির চিন্তাধারার ফল

তিনি আরো বলেন , এই ‘বড় ক্ষতি’ এখন একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে শাসনের নতুন এক ধারণা সামনে এসেছে যেখানে নেতার শাহাদাত কৌশলগত পরিকল্পনাকে ভেঙে দেয়নি; বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত ঐক্য আরো শক্তিশালী করেছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে এই জয়কে কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক যুদ্ধ’ শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়। ওই হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। এর জবাবে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।

মোহাম্মদ রেজা আরিফ জোর দিয়ে বলেন, ‘আজ যে অটল স্থিতিশীল ও জয়ী কর্তৃত্ব দেখা যাচ্ছে, তা খামেনির চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার ফল, যেখানে ক্ষমতার ভিত্তি কোনো ব্যক্তির মধ্যে নয়; বরং জাতির ইচ্ছা ও ঐশ্বরিক কাঠামোর মধ্যে নিহিত।


এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেওয়ার শর্তে তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি একে ‘দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এরপর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত পরাজয়’ ঘোষণা করে। তারা জানায়, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার।

প্রেস টিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শৈশব থেকেই ইসলামী শিক্ষা ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন, যার প্রভাব মাদরার গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত হয়।

শুরু থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। পশ্চিমা সমর্থিত পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধ (যা ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ’ নামে পরিচিত) চলাকালে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন।

ফলে তরুণ যোদ্ধাদের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার উৎস।

ধীরে ধীরে বেলা গড়িয়ে আসে ২০২৫-২৬ সাল। ইরান দুই দফা বিদেশি আগ্রাসনের মুখে পড়ে। প্রথমটি ২০২৫ সালের জুনে, দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই দুই যুদ্ধ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে তার শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা দেখায়।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এরপর আসে ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই সকাল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার কার্যালয়ে আঘাত হানে। রোজা অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত করার সময় তিনি নিহত হন। সেদিনই শুরু হয় ‘রমজান যুদ্ধ’। টানা ৪০ দিন পর বুধবার এই যুদ্ধের অবসান ঘটে। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেয়। এই ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর দিনটি মিলে যায় ইসলামি বিপ্লবের এই নেতার শাহাদাতের ৪০তম দিনে।

Scroll to Top