ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরার একটি গ্রামে তিন সন্তানকে হত্যার পর এক দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের ঘর থেকে একটি ভিডিও বার্তা এবং দেয়ালে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন মনীশ কুমার (৩৫), তার স্ত্রী (আনুমানিক ৩২) এবং তাদের তিন সন্তান- হানি (৮), প্রিয়াংশী (৫) ও প্রতীক (৩)।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পরিবারটি দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে।
পরে সিনিয়র পুলিশ সুপার শ্লোক কুমার জানান, নিজ বাড়ির একটি ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মনীশ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, তার স্ত্রী ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তিন সন্তানের মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শিশুরা খেলতে বাইরে না আসায় গ্রামবাসীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে মনীশের ভাই জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাদের মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
মৃত্যুর আগে মনীশের রেকর্ড করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তারা নিজেদের ইচ্ছায় মারা যাচ্ছেন এবং এতে কারও দোষ নেই। তিনি আরও বলেন, কাউকে যেন এ ঘটনায় হয়রানি করা না হয়। তিনি নিজেকে ভীষণ বিষণ্ন বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ১২ লাখ টাকায় একটি জমি বিক্রি করেছেন এবং এ ঘটনায় জমির ক্রেতার কোনো দায় নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
এ ছাড়া বাড়ির দেয়ালে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে লেখা ছিল—তারা নিজেদের ইচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও চিরকুটের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।



