
ইরান, ৯ ফেব্রুয়ারি – পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছরের পুরোনো একটি রীতি ভঙ্গ করেছেন। তিন যুগের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনি দেশটির বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছরই খামেনি এই বৈঠকে অংশ নিতেন। এমনকি কোভিড মহামারির সময়েও তিনি এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিমানবাহিনীর একদল কর্মকর্তা পাহলভি রাজবংশ উৎখাতে রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। সেই দিনটির স্মরণে প্রতি বছর এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে এ বছর খামেনির পরিবর্তে সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা আবদোলরহিম মুসাভি।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই খামেনির এই অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। খামেনির এই অনুপস্থিতিকে অনেকে জাতীয় নিরাপত্তা বা সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সম্ভাব্য হুমকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছেন। তেহরান একাধিকবার সতর্ক করে বলেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এদিকে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় গত জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে আরব সাগরে মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে। ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরের দিকেও মার্কিন রণতরীর অগ্রসরের খবর পাওয়া গিয়েছে।
এসএএস/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





