৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর লক্ষ্য – DesheBideshe



৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের
বিদেশের বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ধাপে ধাপে এমআরপি সেবা বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ সরকার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন। যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে এমআরপি ইস্যু বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সব মিশন থেকে এমআরপি সেবা গুটিয়ে নিয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।

সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে আরও আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনেও দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে আর এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা পরবর্তীতে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।

বর্তমানে বিদেশে এমআরপি ব্যবহারের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মিশনে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিদেশের মিশনগুলোতে পাসপোর্ট ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট চালুর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সভা শেষে এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। ২০২০ সালে দেশে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও প্রবাসীদের সুবিধার্থে এতদিন এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল।

এনএন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

১. বাংলাদেশে এমআরপি কবে পুরোপুরি বন্ধ হবে?

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বিদেশের বাংলাদেশি মিশনগুলোতে এমআরপি সেবা গুটিয়ে শতভাগ ই-পাসপোর্ট চালু করা হবে।

২. বৈধ এমআরপি থাকলে কি সেটি ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ। বৈধ এমআরপি থাকা ব্যক্তিদের জন্য সেটি হঠাৎ বাতিল করার কথা বলা হয়নি। পরবর্তী সময়ে তাঁরা ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩. নতুন করে এমআরপি করা যাবে কি?

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে এমআরপি ইস্যু করা হবে না।

৪. ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করা যাবে?

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

৫. কোন কোন মিশনে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

সৌদি আরবে সেবার সক্ষমতা বাড়াতে আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Scroll to Top