২০০১ সালে সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিল কভেন্ট্রি সিটি, সেবার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে অবনমন হয়েছিল ক্লাবটির। ঠিক তার ২৫ বছর, দিন সংখ্যায় ৯,১১৩ দিন পর আবারও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবল লিগে পদোন্নতি পেয়েছে দলটি। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অধীনে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগে ফিরে এসেছে দলটি।
ব্ল্যাকবার্ন বিপক্ষে ১-০গোলে পিছিয়ে ছিল কভেন্ট্রি। ম্যাচের ছয় মিনিট বাকি থাকতে ববি টমাসের গোলে সমতা ফেরে ইংলিশ ক্লাবটি। ঘরের মাঠে এ গোলেই ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে কভেন্ট্রি সিটির প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই দলটির খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা পদোন্নতির উৎসবে মাতে।
দলটির এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন একযাত্রা। দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে ১১ বছর কাটানোর পর ক্লাবটি সেখানে থেকেও অবনমন হয়ে ২০১৩ সালে তৃতীয় স্তরের লিগ-ওয়ানে চলে যায়। এমনকি সেখান ক্লাবটি সুবিধা করতে না পেরে ২০১৭ সালে চতুর্থ স্তরের লিগ-টুতে অবনমন হয়।
অবশ্য ২০১৮ সালে আবার সেখানে থেকে পদোন্নতি করে লিগ ওয়ানে ফিরে আসে কভেন্ট্রি সিটি। ২০২০ সালে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে আসে তারা।
তবে সেই সময়গুলোতে শুধু অবনমন নয়, ক্লাবটি অভ্যন্তরীণ বেশ সমস্যার মধ্যে দিয়েও যায়। নর্দাম্পটন ও বার্মিংহামের সাথে দুটি মাঠ ভাগাভাগি করে খেলতে হয় তাদের। এছাড়াও ২০০৫ সালে ক্লাবটি পূর্বে ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেয়। সে সময় ক্লাবের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল। ২০০৭ সাল হেজ ফান্ড মালিক সিসু ক্যাপিটাল ক্লাবটি কিনে নেয়ার পর এটি এড়ানো সম্ভব হয়। তবে সিসুর পরবর্তীতে আর আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পারেনি।
এমনকি সেসময় সমর্থকরা মিছিলে নামে এবং জোরপূর্বক মাঠেও ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। এর কারণ ছিল সেই মালিকপক্ষ। পরবর্তীতে তারা ১৩ বছর পর ২০২৩ সালে ক্লাবটি ডাগ কিংয়ের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরআগে সেই ১৩ বছরের মেয়াদে ক্লাবটি ৫৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্তরে নেমে গিয়েছিল।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে চেলসি এবং ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় ল্যাম্পার্ডের দলটির কোচিংয়ের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকেই ক্লাবটি ধীরে ধীরে তাদের আগের জায়গায় ফিরতে থাকে। যার সাফল্যের সর্বশেষ ছিল শুক্রবার রাতে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসা।




