১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের দামে সবচেয়ে বড় পতন

১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের দামে সবচেয়ে বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে গেছে, যা ১৯৮৩ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের দামে সবচেয়ে বড় পতন

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটালেও—যেখানে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার কথা—সেখানে উল্টো দাম কমেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হলো সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সুদবাহী বিনিয়োগ যেমন বন্ডের আকর্ষণ বাড়ছে, আর স্বর্ণ—যা কোনো সুদ দেয় না—তার চাহিদা কমছে।

এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন ডলারের মানও বেড়েছে। যেহেতু স্বর্ণের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে বেশি দামে পড়ে, ফলে এর চাহিদা কমে যায়।

গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দাম ব্যাপক বেড়েছিল। ২০২৫ সালে প্রায় ৬৪ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫,০০০ ডলার ছাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক পতনে তা কমে ৪,৫০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক বিনিয়োগকারী অন্য খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। ফলে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা কিছুটা থেমে গেছে।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত করলো ট্রাম্প, কমল তেলের দাম

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।

Scroll to Top