দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পর ২০২৬ সালে এসে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করল ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই স্পেনের মাদ্রিদ বা বার্সেলোনা তো বটেই, আনন্দের জোয়ারে ভেসে গেছে প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও।
ফুটবল মাঠে স্পেন ও পর্তুগালের দ্বৈরথ চিরন্তন। তবে গতকাল রাতের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের উৎসবে মেতে উঠেছে পর্তুগালে বসবাসরত এবং ঘুরতে আসা বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবল ভক্তরা। রাজধানী লিসবনের বিখ্যাত ‘প্রাকা দো কোমার্সিও’ থেকে শুরু করে পোর্তো শহরের সংকীর্ণ গলিপথ—সবখানেই কাল রাতে ছিল লাল-হলুদ জার্সির আধিপত্য। পর্তুগালে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে আসা এবং প্রবাসী হাজারো ফুটবলপ্রেমী কাল রাতে এক হয়ে গিয়েছিলেন স্পেনের পতাকার নিচে।
লন্ডন থেকে আসা ব্রিটিশ পর্যটক মার্কাস জানালেন, ফুটবলের নান্দনিকতা আজ জিতেছে। স্পেন যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে খেলেছে, এই ট্রফি তাদেরই প্রাপ্য ছিল। পর্তুগালের মাটিতে বসে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে দারুণ লাগছে।
ব্রাজিলিয়ান প্রবাসী তরুণী মারিয়া বললেন, পর্তুগালে লাতিন ও ইউরোপীয় ফুটবলের একটা দারুণ মিশ্রণ আছে। যদিও আমরা ব্রাজিলকে মনেপ্রাণে সমর্থন করি, কিন্তু আজ স্পেনের এই তরুণ দলটির পাসিং ফুটবল আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাই আমরাও পর্তুগিজ বন্ধুদের সাথে রাস্তায় নেমে এসেছি।
খেলার প্রথমার্ধ থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল লিসবনের স্পোর্টস বারগুলোতে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি যখনই স্পেনের পক্ষে শেষ হল, অমনি বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে চারপাশ। ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান এমনকি এশিয়ান দেশগুলো থেকে আসা ফুটবল ভক্তরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন স্পেনের বিজয়ের গান। কেউ ওড়াতে থাকেন স্পেনের জাতীয় পতাকা।
ইকার ক্যাসিয়াস ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের সেই সোনালী প্রজন্মের পর, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই ট্রফির খোঁজে ছিল স্প্যানিশরা। অবশেষে তরুণ ও অভিজ্ঞদের দুর্দান্ত সংমিশ্রণে তৈরি এই নতুন স্প্যানিশ আর্মাডা বিশ্বজয় করল। আর তাদের এই ঐতিহাসিক অর্জনকে উৎসবে রূপ দিতে একবিন্দুও কার্পণ্য করল না পর্তুগালে আসা বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবল পাগল মানুষ।
রাত গড়িয়ে ভোর হলেও পর্তুগালের রাজপথে ভক্তদের উল্লাসের ধ্বনি থামেনি। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই রাতটি শুধু একটি দেশের বিশ্বকাপ জয়ের রাত ছিল না, এটি ছিল ফুটবলের প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসার এক বৈশ্বিক উদযাপন।


