
ঢাকা, ১৪ মে – বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসীরা আবারও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিলেন। চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনেই ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন তারা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার। গত বছরের এই সময়ে এসেছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে বিশাল প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
এক নজরে প্রবাসী আয়ের বর্তমান চিত্র
চলতি অর্থবছরের অর্জন: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.৪০ শতাংশ বেশি।
ঐতিহাসিক মার্চ: গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বিগত মাসের ধারাবাহিকতা: এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম বাড়ানো এবং বৈধ পথে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পেয়েছিল, বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে এবার সেই রেকর্ডও অনায়াসেই ভেঙে যাবে।
টানা কয়েক মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের আমদানি দায় মেটানো এবং ডলার সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৪ মে ২০২৬






