মানুষ আসার আগেই মহাপ্রলয়
আমরা সাধারণত ভাবি, নিউজিল্যান্ডের অদ্ভুত সব পাখি বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে মানুষের হাতই সবচেয়ে বেশি। মানুষ সেখানে গিয়েছিল মাত্র ৭৫০ বছর আগে। কিন্তু এই গবেষণা আমাদের সেই ধারণা কিছুটা বদলে দিচ্ছে।
গুহায় পাওয়া ফসিলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানুষ সেখানে পা রাখার বহু আগেই, অর্থাৎ গত ১০ লাখ বছরে সেখানকার জীববৈচিত্র্যে বিশাল এক ধস নেমেছিল। মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রায় ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
এর কারণ কী? বিজ্ঞানীরা আঙুল তুলছেন প্রকৃতির দিকেই। সুপার-ভলকানো বা বিশাল সব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন এর জন্য দায়ী। ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রধান গবেষক ট্রেভর ওয়ার্থি বলেন, ‘এই গবেষণা প্রমাণ করে, সুপার-ভলকানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক শক্তিগুলো ১০ লাখ বছর আগেই আমাদের বন্য প্রাণীদের ভাগ্য লিখে দিচ্ছিল।’
নিউজিল্যান্ডের প্রাণিজগৎ কেন এত অদ্ভুত ও আলাদা, তার উত্তর হয়তো এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভাঙা-গড়ার ইতিহাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। বাস্তুতন্ত্র বারবার ভেঙেছে, আবার নতুন করে গড়ে উঠেছে। আর এই ভাঙা-গড়ার সাক্ষী হয়ে আজ ১০ লাখ বছর পর আমাদের সামনে এল মোয়া এগশেল কেভের এই আবিষ্কার।
এই গবেষণা প্যালিওনটোলজি বিষয়ক জার্নাল অ্যালকেরিঙ্গা: অ্যান অস্ট্রালশিয়ান জার্নাল অব প্যালিওনটোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে।



