হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাপড়া ঘরে ১৮ বছর শেকলবন্দী শুকুম আলী

হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাপড়া ঘরে ১৮ বছর শেকলবন্দী শুকুম আলী

বাড়ির সামনের এই ছাপড়া ঘরটিতেই শেকলবন্দী অবস্থায় কেটে গেছে শুকুম আলীর জীবনের ১৮টি বছর। পৃথিবীটা তার জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে কয়েক ফুট জায়গার মধ্যে। দিনের আলো, বিকেলের রোদ কিংবা রাতের অন্ধকার সবকিছুর সাক্ষী হন তিনি। কিন্তু, মুক্তভাবে হাঁটার সুযোগ নেই।

হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাপড়া ঘরে ১৮ বছর শেকলবন্দী শুকুম আলী

ভোর হলেই ঘর থেকে বাইরে এনে পায়ে পরিয়ে দেওয়া হয় শেকল। সারাদিন কাটে এই ছাপড়া ঘরে। সন্ধ্যা নামলে আবার ফিরে যান আগের জায়গায়। এভাবেই কেটে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। পার হয়ে গেছে প্রায় দুই দশক।

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম, তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়া হাটি গ্রামের বাসিন্দা শুকুম আলী চৌকিদার। জন্ম থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তবে, একসময় অন্যদের মতোই করতেন কৃষিকাজ। বাবা ও ভাইদের সঙ্গে মাঠে শ্রম দিয়ে জীবনের গল্প লিখছিলেন নিজের মতো করেই। কিন্তু, ২০০৯ সালে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। দীর্ঘ এক বছর পর ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার সন্ধান পায় পরিবার। তখন শুকুম আলী অসুস্থ। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি তার। তাছাড়া, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা পায়ে পরিয়ে দিয়েছে শেকল। সেই শেকল এখনও বহন করছেন শুকুম আলী।

সময় গড়াতে থাকে, বন্দী হয়ে পড়ে জীবন। থমকে যায় স্বাভাবিক চলার পথ। দীর্ঘ ১৮ বছর শেকলবন্দী থাকতে থাকতে শুকুম আলীর বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। এখন নিজের শক্তিতে হাঁটতেও পারেন না আর।

তবে শুকুম আলীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জানানো হয়েছে, তার চিকিৎসাপুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শেকলবন্দী শুকুম আলীর জীবন। নিরাপত্তার অজুহাতে শুরু হওয়া এই বন্দি জীবন তার শারীরিক সক্ষমতাকেও কেড়ে নিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শেকল নয় প্রয়োজন চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা।

Scroll to Top