গত এপ্রিলের শুরুতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই সড়ক নির্মাণের বিষয়ে বন বিভাগের মতামত জানতে চায়। জবাবে বন বিভাগ বলেছে, মধুশিয়া গর্জনবন হাতি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে সড়ক নির্মিত হলে মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়বে, বনের প্রাকৃতিক অখণ্ডতা নষ্ট হবে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাউছার প্রথম আলোকে বলেন, বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের জন্য অনাপত্তি চেয়ে আবেদন এসেছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণে অনাপত্তিপত্র চেয়ে বন অধিদপ্তরে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ। তিনি সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে ৩০টি সড়ক নির্মাণ করতে চান। গত ২০ মে দেওয়া ওই চিঠিতে এসব সড়ক বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান।
জানতে চাইলে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক না করলে মালামাল যাবে কোন দিক দিয়ে? এসব সড়কের টেন্ডার হয়ে গেছে, বন বিভাগের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না।
১৪ জুন চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ থেকে বন অধিদপ্তরে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে, মহেশখালীর জে এম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত সড়কটি পড়েছে সংরক্ষিত বনে। ১৯৫৭ সালে বন আইনের ২০ ধারায় এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। এ বনে মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, বানর, মুখপোড়া হনুমান, বিপন্নপ্রায় পাহাড়ি কচ্ছপ, অজগরের আবাসস্থল। এ বনে বন বিভাগের বনায়ন কর্মসূচিও চলমান আছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংরক্ষিত এ বনে সড়ক নির্মাণ করা হলে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, বৃক্ষনিধন, মাটির অণুজীব নষ্ট হওয়া, কীটপতঙ্গ, উদ্ভিদ, জলাধারসহ বনের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।



