যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে সহযোগী দেশগুলোকে আবারো আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে, তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে সহযোগী দেশগুলোকে আবারো আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে, তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
এনবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে চুক্তি করতে তিনি প্রস্তুত নন, বরং তিনি ইরানের খারগ দ্বীপে আরো হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত আছে এবং ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো জ্বলছে। আজ ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই প্রতিরোধ বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন নাগরিকদের বিভিন্ন দেশ ছাড়ার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের বাগদাদ দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ওই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। শনিবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ইরাকে থাকা তাদের নাগরিকদের দেশটি ছাড়তে বলা হয়েছে।
দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘এখনই ইরাক ছেড়ে যাওয়া উচিত’।
তারা আরো লিখেছে, ‘যারা ইরাকে থাকতেই চাইছেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে, কারণ ইরানের সাথে যুক্ত থাকা গোষ্ঠীর কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের আরো কমপক্ষে ১২টি দেশের বাইরে চলে যেতে বলেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ওমান থেকে জরুরি নয়, এমন সব সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের আহ্বানে টোকিওর সতর্কতা
ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও টোকিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বুধবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে এ বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, জাপানকে তাদের আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, জাপান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো বিশেষ অনুরোধ আসবে কি-না, তা সরকারকে খুব সতর্কভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু ট্রাম্প অনুরোধ করেছেন বলেই জাপান সাথে সাথে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাবে না।
তিনি বলেন, ‘জাপান নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়াটাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান সুইস সরকারের
মার্কিন সামরিক বিমান মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালানোর সময় সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের করা দু’টি আবেদন সুইজারল্যান্ড সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতার আইন অনুযায়ী এ ধরনের ওভারফ্লাইট নিষিদ্ধ, কারণ ‘যুদ্ধ সংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহার করা এই আইনের বিরোধী’।
তবে সুইস সরকার জানিয়েছে, অন্য তিনটি বিমান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে- এর একটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং অন্য দু‘টি পরিবহন বিমান।
নিহত ছয় সেনার পরিচয় প্রকাশ
ইরাকে গত ১২ মার্চ সামরিক জ্বালানিবাহী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় সেনা সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রর প্রতিরক্ষা বিভাগ।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে নিহতরা হলেন- জন আ ক্লিনার, আরিয়ানা জি সাভিনো, অ্যাশলে বি প্রুইট, সেই আর কোভাল, কার্টিস জে আংস্ট ও টাইলার এইচ সিমন্স।
তারা সবাই কেসি-১৩৫ জ্বালানিবাহী বিমানের ক্রু ছিলেন। এ ট্যাঙ্কার বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল।
পেন্টাগন জানিয়েছে, বিমানটির দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এ বিমানটি ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের গুলির কোনো ভূমিকা ছিল না।
ইরানের নতুন নেতা জীবিত কি-না, প্রশ্ন ট্রাম্পের
শনিবার এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মোজতবা খামেনি ইরানের নিহত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না সে আদৌ বেঁচে আছে কি-না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে সামনে দেখাতে পারেনি।’
কারণ বৃহস্পতিবার মোজতবা খামেনি ক্যামেরার সামনে কথা না বলে লিখিতভাবে তার প্রথম বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন।
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি শুনছি সে বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচেও থাকে, তাহলে আত্মসমর্পণ করা হবে তার দেশের জন্য বুদ্ধিমান কাজ’।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তবে পরে ট্রাম্প তার মৃত্যুর খবরকে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।



