
ওয়াশিংটন, ১৬ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাজ্যসহ প্রধান পশ্চিমা ও এশীয় মিত্র দেশগুলো তা কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল আম্বিয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের যেকোনো তেলবাহী জাহাজ তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনকে নৌবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো দেশই তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তার দেশ আপাতত কোনো রণতরী পাঠাবে না। ব্রিটিশ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন নৌপথটি সচল করার জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে লন্ডন তা খতিয়ে দেখছে। নৌমাইন শনাক্তে চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
অন্যদিকে ফ্রান্স এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জার্মানিও এই অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনের বিস্তৃতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে তারা ওয়াশিংটনের সাথে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সতর্ক পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই প্রধান মিত্র জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিয়ার স্টারমারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ায় ট্রাম্প এর আগে স্টারমারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি স্টারমারকে উইনস্টন চার্চিলের বিপরীত বলেও মন্তব্য করেন। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপে প্রণালি সচল করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হলেও সামরিক সহায়তার বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি।
হরমুজ প্রণালি সচল করতে মিত্র দেশগুলো এগিয়ে না এলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন এই প্রণালির সুবিধাভোগী দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন সেখানে কোনো সমস্যা না হয়। তিনি আরও বলেন যদি মিত্রদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়া যায় বা জবাব নেতিবাচক হয় তবে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।
এনএন/ ১৬ মার্চ ২০২৬





