যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। এ উদ্দেশ্যে একটি ফরাসি বিমানবাহী রণতরী সুয়েজ খালের দক্ষিণে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় গত বুধবার জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত ফরাসি যুদ্ধজাহাজ শার্ল দ্য গোল হরমুজ প্রণালীর দিকে যাত্রা করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কেয়ার স্টারমার প্রণালীটিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে একটি বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের দাবি, এ মিশন সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক হবে এবং যুদ্ধ শেষ হলেই তা মোতায়েন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ বলেন, এটি জাহাজ মালিক ও বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। এটি যুদ্ধরত পক্ষগুলোর বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনালাপের পর ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গেও আলোচনা করতে চান।
তিনি বলেন, হরমুজে শান্তি ফিরলে পারমাণবিক ইস্যু, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং ইউরোপ এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে এবং এর বিনিময়ে তেহরান পারমাণবিক উপকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প বুধবার আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে তেহরান বলছে, তারা এখনো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত জবাব দেয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানি সূত্র ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী, দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এক পৃষ্ঠার একটি স্মারকলিপিতে সম্মত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দকৃত শত শত কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দিতে পারে। পাশাপাশি চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে এবং আদান-প্রদান হওয়া বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




