
ছবি: সংগৃহীত।
জীবন চলার পথে নানা চড়াই-উতরাই, ব্যর্থতা আর মানসিক চাপ আমাদের প্রতিনিয়ত ঘিরে ধরে। কিন্তু এই নেতিবাচকতাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ইতিবাচক চিন্তা দিবস’ (পজিটিভ থিংকিং ডে)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এমন এক সময়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে, যখন অতি-যান্ত্রিক জীবন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে জীবনের ছোট ছোট অর্জনগুলোকে উদযাপন করা এবং আশাবাদী থাকার অভ্যাস গড়ে তোলাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
দিবসের ইতিহাস ও পেছনের কথা
২০০৩ সালে একজন মার্কিন উদ্যোক্তা মানুষের মন থেকে নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচক শক্তির চর্চা বাড়াতে এই বিশেষ দিনটির সূচনা করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ইতিবাচক চিন্তা কেবল মন ভালো রাখে না, বরং এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে।
কীভাবে পালিত হচ্ছে আজকের দিন?
ইতিবাচক চিন্তা দিবস উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরণের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ও ইতিবাচক উক্তি শেয়ার করছেন নেটিজেনরা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন তরুণদের মানসিক চাপ সামলানোর উপায় এবং চিন্তাভাবনার ধরন বদলানোর কৌশল নিয়ে অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করেছে। অনেকেই আজ দিনটি উদযাপন করছেন জীবনের ভালো দিকগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে (গ্র্যাটিটিউড জার্নালিং)।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
রাজধানীর একজন শীর্ষস্থানীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইতিবাচক চিন্তা করার অর্থ এই নয় যে আমরা জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যাব বা জোর করে হাসিখুশি থাকব। এর আসল অর্থ হলো—কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ‘আমি এটি কাটিয়ে উঠতে পারব’ এই বিশ্বাস রাখা।
আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত, নিজের ও অন্যের সমালোচনা একটু কমিয়ে অন্তত একটি ভালো দিক খুঁজে বের করা।”
‘দিনশেষে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’—এই বিশ্বাস বুকে নিয়ে আজকের এই বিশেষ দিনে নিজেকে এবং চারপাশের মানুষকে একটুখানি বাড়তি সাহস ও ইতিবাচক শক্তি জোগানোর আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…