ফেনীতে সরকারি আদেশ অমান্য করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বহু মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। ছিল না কোন অনুষ্ঠানের আয়োজনও।
শুধু স্বাধীনতা দিবসই নয়, কোনও জাতীয় দিবসে মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। ঠিক কি কারণে সরকারি আদেশ অমান্য করা হয়েছে-এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসাসহ) প্রতি কার্যদিবসে এবং জাতীয় দিবসগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা একটি গুরুতর আইনগত ও সাংবিধানিক লঙ্ঘন।
সরজমিনে সোনাগাজী উপজেলার পৌরসভা ও কয়েকেটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি আদেশ মেনে হাটবাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বহু মাদ্রাসায়।
সোনাগাজী ওলামা বাজার দরিুল উলুম আল হোসাইনিয়া মাদ্রাসা, চরছান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, হাবিবিয়া ইসলামিয়া আরবিয়া মাদ্রাসা, রশিদিয়া মাদ্রাসা, সোনাগাজী পৌরসভার রওজাতুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসা, সোনাগাজী মডেল মাদ্রাসা, মতিগঞ্জ ইউনয়নের কদমতলা মদিনাতুল উলুম নুরিয়া মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
এছাড়াও উপজেলা অন্যান্য ইউনিয়নের বহু মাদ্রাসায়ও পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
পূর্ব বড়ধলী মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পাশের ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অনুদান ও আমাদের ছেলে-মেয়েদের বেতনে মাদ্রাসায় পড়ালেখা চলে অথচ স্বাধীনতা দিবেসেও জাতীয় পতাকার সন্মান দেখায়নি। এটা খুবই দুঃখজনক, তাদের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও সরকারি আদেশ মানা উচিত।
কদমতলা মদিনাতুল উলুম নুরীয়া মাদ্রাসা এলাকার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না না করার শর্তে বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। তবে এ মাদ্রাসায় কখনো জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলন করা হয় না। এমনকি এখানে পতাকা উত্তোলনের জন্য স্ট্যান্ডও স্থাপন করা হয়নি।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, জাতীয় দিবসে পতাকা না ওঠানো এবং অনুষ্ঠান না করা আইনগত অপরাধ। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






