দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমল স্বর্ণ ও রুপার দাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। এবার ভরিতে ২৩৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সব মিলিয়ে শেষ দুই দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম কমল মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এদিকে দুই দফায় রুপার দাম কমেছে মোট ৫৮৪ টাকা।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুপার দামও ভরিতে ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। গত ২৩ এপ্রিল এই মানদণ্ডের রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ দুই দফায় রুপার দাম কমল ৫৮৪ টাকা।
রুপার নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৫ বার কমেছে। অন্যদিকে, এ বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৩৬ বার।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার এবং রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে দাম পরিবর্তনের অস্থিরতা আরও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুস এই নিয়মিত সমন্বয় করছে বলে জানানো হয়েছে।



