স্ট্রেইটস টাইমসে ধনকুবেরকে নিয়ে যে সংবাদ | চ্যানেল আই অনলাইন

স্ট্রেইটস টাইমসে ধনকুবেরকে নিয়ে যে সংবাদ | চ্যানেল আই অনলাইন

ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেয়া এক বাংলাদেশির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। ফোর্বসের ২০২৫ সালের তালিকায় তিনি সিঙ্গাপুরের ৪৯তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান পান। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাসিন্দা ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক মুহাম্মদ আজিজ খান, তার পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে তাদের মালিকানাধীন জমিও জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজিজ খান।

তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এবং আয়কর কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো তদন্তকে সমর্থন করছি। এখন পর্যন্ত আমার বা আমার কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

মুহাম্মদ আজিজ খান সিঙ্গাপুরভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান। তার প্রধান প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিক্স ও রিয়েল এস্টেট খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচালনাকারী হিসেবে পরিচয় দেয়।

২০১৯ সালে জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান জেরা কো ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যার ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আজিজ খানের ভাই, যিনি বাংলাদেশের সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন, ২০২৪ সালে এক রাজনৈতিক কর্মীর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বে আসেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

Scroll to Top