সৌদি আরবের বিকল্প তেলপথ হতে পারে ইরান-ইসরায়েলের গোপন পাইপলাইন | চ্যানেল আই অনলাইন

সৌদি আরবের বিকল্প তেলপথ হতে পারে ইরান-ইসরায়েলের গোপন পাইপলাইন | চ্যানেল আই অনলাইন

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও রপ্তানি ব্যবস্থা নতুন করে চাপে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপে সৌদি তেল সরবরাহের বিকল্প পথ হিসেবে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলের একটি পুরোনো গোপন তেল পাইপলাইন, যা প্রায় ছয় দশক আগে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল।

আজ (২৯ জুলাই) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ভবিষ্যতে ইসরায়েলের ইলাত-আশকেলন পাইপলাইন ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এই ধরনের সহযোগিতার সবচেয়ে বড় বাধা রাজনৈতিক বাস্তবতা, কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের এখনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

সম্প্রতি হুথিরা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবুর তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হামলার পর ২৭ জুলাই দৈনিক ৪ লাখ ব্যারেল সক্ষমতার জাজান শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। এতে তেল সরবরাহ ও রপ্তানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন করলেও, সেখান থেকে ইউরোপে যেতে জাহাজগুলোকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়, যা এখন হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইলাত-আশকেলন পাইপলাইন। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির আমলে ইরানের অর্থায়ন ও ইসরায়েলের প্রকৌশল দক্ষতায় গোপনে এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের অপরিশোধিত তেল ইলাত বন্দর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের আশকেলনে নিয়ে ইউরোপে পাঠানো, যাতে সুয়েজ খাল ব্যবহার না করেও দ্রুত রপ্তানি সম্ভব হয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক ছিন্ন হলে পাইপলাইনটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইসরায়েলের হাতে চলে যায়। বর্তমানে এটি ইউরোপ এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (ইএপিসি) পরিচালনা করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বড় অংশই গোপন রাখা হয়।

ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন নির্মাণের ধারণাও উত্থাপন করেছেন। তার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইসরায়েল হয়ে ইউরোপে পৌঁছালে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সৌদি তেল প্রথমে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে ট্যাংকারে করে লোহিত সাগর হয়ে ইলাতে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে পুনরায় জাহাজে তুলে ইউরোপে পাঠানো হবে। বিপরীতমুখী প্রবাহে এই পাইপলাইন দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্ষমতা সৌদি আরবের দৈনিক ৬০ থেকে ৭৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ইলাত বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো এত বড় পরিমাণ তেল পরিবহনের জন্য উপযুক্ত নয়। প্রয়োজন হবে নতুন জেটি, সংরক্ষণাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিপুল বিনিয়োগ।

এদিকে রাজনৈতিক বাধাও কম নয়। সৌদি আরব বারবার বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। গাজা যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।

Scroll to Top