
দেশের সেরা ও নামকরা কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কলেজে পাসের হার ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশের বেশি হলেও সেখানে অকৃতকার্য হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ব্যর্থতার চিত্রও উঠে এসেছে।
শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, হলিক্রস কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নটর ডেম কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও ঢাকা কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার সন্তোষজনক হলেও শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, হলি ক্রস কলেজের পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। কলেজটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮১৬ জন শিক্ষার্থী।
কলেজটির পরীক্ষার্থী ছিল এক হাজার ৩০৮ জন; পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩০৩ জন, তাদের মধ্যে পাস করেছেন এক হাজার ২৯৮ জন। সার্বিক ফলে অকৃতকার্য হিসেবে নাম এসেছে ১০ জনের।
এ বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৫৮ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন শিক্ষার্থী। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
নটর ডেম কলেজে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বছর কলেজটি থেকে ৩ হাজার ২৭২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২২৯ জন শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫৪ জন।
রাজধানীর আরেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ১ হাজার ৬৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৬২৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১০ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮২৯ জন।
ঢাকা কলেজে ১ হাজার ১৩৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৮ জন।
জাতীয় পর্যায়ের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে নামকরা কলেজগুলোর এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। এবার সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। কতজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের ফল কেন খারাপ হয়েছে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এরআগে শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফল জানা যায়। এ ছাড়া মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমেও ফল দেখতে পারছে শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

