সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা, দুই ইতিহাস গড়ার পথে সুইসরা | চ্যানেল আই অনলাইন

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা, দুই ইতিহাস গড়ার পথে সুইসরা | চ্যানেল আই অনলাইন

১৯৫৪ সালে সবশেষ কোয়ার্টারফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার শেষ আটে দলটি, স্বপ্ন দেখছে প্রথমবার সেমিফাইনালের। তবে সেই স্বপ্নের পথে তাদের সামনে বাধা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও এবারের হটফেভারিট আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় শিরোপা লক্ষ্যে থাকা আলবিসেলেস্তে চাইবে সুইসদের হারিয়ে সেমি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সেমিতে উঠে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার প্রত্যয়ে মাঠে নামবে সুইজারল্যান্ড।

কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৭টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে ওঠেছে সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের সামনে সুযোগ নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে নতুন রেকর্ড গড়ার, আর আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশন বজায় রাখা।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছন্দে আছে দুই দলই। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচে দুই দলই কঠিন পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। টানা পাঁচটি ম্যাচে জিতেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠলে আর্জেন্টিনা রাউন্ড অব ৩২ এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলে ৩-২ জিতে শেষ ষোলোতে আসে। সেখানে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও ৭৯ মিনিটের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয়। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী কলম্বিয়ার সাথে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ০-০ ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। এর আগে রাউন্ড অব ৩২-এ তারা আলজেরিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। গ্রুপপর্বেও দারুণ পারফর্ম করে তারা নকআউট পর্বে নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হতে চলেছে তৃতীয়বারের মত। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় গ্রুপপর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে এবং সবশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

শক্তিমত্তাতেও বেশ এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ফিফার সবশেষ র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ অনুযায়ী তৃতীয় স্থানে থাকা দলটি আর্জেন্টিনা। বড় শক্তি ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করেছেন মহাতারকা। এছাড়া লৌতারো মার্টিনেজ ও এনজো ফের্নান্দেজরাও আছেন ছন্দে। তবে রক্ষণভাগের সাময়িক অসতর্কতা দুর্বলতার জায়গা তাদের। শেষ দুই নকআউট ম্যাচেই (কেপ ভার্দে ও মিশর) তারা ২টি করে গোল হজম করেছে, যা নকআউটের বড় মঞ্চে চিন্তার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে ৫ ধাপ এগিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে ওঠা সুইজারল্যান্ডের বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাড়। দলগত ডিফেন্সিভ শৃঙ্খলায় নকআউট পর্বের শেষ দুই ম্যাচে তারা কোনো গোল হজম করেনি। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল এবং অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ আগলে রাখছেন। তাদের দুর্বলতা এককভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ফুটবলারের অভাব। আক্রমণভাগে ব্রিল এম্বোলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই যেন তাদের বড় চিন্তা।

​ইতিহাস এবং হেড-টু-হেড রেকর্ডের দিকে তাকালে আলবিসেলেস্তেরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দুই দলের অতীত ৭ বারের দেখায় আর্জেন্টিনা জিতেছে ৫টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে, অর্থাৎ সুইজারল্যান্ড কখনোই আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারও এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখছে। ম্যাচের আগে অপটার সুপার কম্পিউটার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৫৭.৭ শতাংশ, যেখানে সুইজারল্যান্ডের সম্ভাবনা মাত্র ১৮ শতাংশ। ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৪.৩ শতাংশ। অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ সব সম্ভাবনা বিবেচনায় সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৭০.৫ শতাংশ, আর সুইজারল্যান্ডের ২৯.৫ শতাংশ।

এগিয়ে থাকলেও সুইজারল্যান্ডকে তাই সহজ প্রতিপক্ষ মানতে নারাজ আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। শারীরিকভাবে শক্ত-পোক্ত সুইসদের সমীহ করছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বলেছেন, ‘কেউই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আমরা সবাই সেটা জানি। সুইজারল্যান্ড খুবই ভালো একটি দল, তারা সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং জয়ী হয়। তাদের শক্তিশালী ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার আছে। তারা কঠিন প্রতিপক্ষ হবে এবং তারা এখানে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। তাদের কিছু আকর্ষণীয় খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে শারীরিক বৈশিষ্টের দৃষ্টিকোণ থেকে।’

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগের বেশ নির্ভারই সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। মেসিকে নিয়েও খুব একটা ভাবছেন না। বলেছেন, ‘যখন আমাদের পায়ে বল থাকবে, তখন সে (মেসি) খুব একটা সক্রিয় হতে পারবে না। আমরা স্রেফ নিজেদের খেলাটা খেলার এবং তাকে বল পায়ে খেলতে না দেওয়ার চেষ্টা করব। আগামীকাল মাঠে আমরা একটা দল হয়ে খেলব। ভালো পাস দেওয়ার এবং উপরে উঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করব। এখানে শুধু কথা বলতে আসিনি। আমি পরের ধাপে যেতে চাই এবং আমরা শেষের খুব কাছাকাছি। আমি এর জন্য আকুল হয়ে আছি, আমি ক্ষুধার্ত এবং আমাদের এখন স্রেফ প্রয়োজন, আমরা এটা কতটা চাই, সেটা মাঠে দেখানো।’

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা, রদ্রিগো ডে পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ, লিয়েন্দ্রো পারেদেস, লিওনেল মেসি, লৌতারো মার্টিনেজ।

সুইজারল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ
গ্রেগর কোবেল (গোলরক্ষক), ম্যানুয়েল আকানজি, রিকার্ডো রদ্রিগেজ, নিকো এলভেদি, ডেনিশ জাকারিয়া, গ্রানিত জাকা, রেমো ফ্রেউলার, রুবেন ভার্গাস, ফ্যাবিয়ান রাইডার, ড্যান এনডয়ে, ব্রিল এম্বোলো।

Scroll to Top