
ইসলামাবাদ, ১ জুলাই – সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে আফগানিস্তান থেকে আসা চারটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে পাকিস্তান। বেলুচিস্তান প্রদেশে এই ড্রোনগুলো শনাক্ত করার পর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল যে তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের পিশিন জেলা ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএসের আস্তানায় হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এই ড্রোন উড্ডয়নকে আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কাবুলের দাবি অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানা এবং এই হামলায় কোনো বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হয়নি। তবে কোনো পক্ষের দাবিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দুই দেশের মধ্যে এই সামরিক অস্থিরতা নতুন কোনো বিষয় নয়।
গত জুন মাসে করাচিতে একটি আধা সামরিক বাহিনীর কম্পাউন্ডে বন্দুকধারী হামলার জেরে পাকিস্তানও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশই একে অপরের ওপর দোষারোপ করার নীতি গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান যেখানে আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলছে সেখানে বিশ্লেষক রহিম নাসারি একে পাকিস্তানের নিজস্ব গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ সাল জুড়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সংকটে ফেলেছে।
চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কোনো সুফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন পাকিস্তান যদি তাদের সীমান্ত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধান না করে এবং আফগান তালেবান যদি টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে তবে এই অঞ্চলের সংঘাত আরও গভীর হবে।
এনএন/ ১ জুলাই ২০২৬






