ভারতের নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সার্জিও গোরের নাম ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে গোরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ আগস্ট) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ঘোষণায় তিনি গোরের প্রতি নিজের আস্থার কথা জানান এবং বলেন, সার্জিও গোর একজন দারুণ বন্ধু। বহু বছর ধরে তিনি আমার পাশে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে, ভারত সরকার কর্তৃক মার্কিন পণ্যের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে। সম্প্রতি ইলন মাস্কের সঙ্গে সার্জিও গোরের সংঘাত নিয়েও বেশ আলোচনা হয়েছে।
কে এই সার্জিও গোর?
সার্জিও গোর ২০২০ সাল থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনী প্রচারাভিযানে তহবিল সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিতে নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট পার্সোনেল অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, মার্কিন সিনেট তার রাষ্ট্রদূত পদের মনোনয়ন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
গোরের জন্ম সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দে। ১৯৯৯ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরবর্তীতে তিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সেসময়ই কলেজ রিপাবলিকানস এবং ইয়াং আমেরিকাস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
গোরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় কেন্টাকির সেনেটর র্যান্ড পলের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে। পরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করেন এবং ট্রাম্পপুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দু’জনে মিলে একটি প্রকাশনা সংস্থাও গড়ে তোলেন, যা রিপাবলিকানপন্থী বই প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাস্ক বনাম গোর
মার্চ মাসে একটি হাই-প্রোফাইল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের সময় মাস্ক প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। সেসময় গোপনে হলেও, গোর ছিলেন মাস্কের কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্রভাবের অন্যতম বিরোধী।
পরে গোর নাসার প্রধান হিসেবে মাস্ক-সমর্থিত ব্যবসায়ী জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মনোনয়ন আটকে দেন। এই ঘটনায় মাস্ক ক্ষুব্ধ হন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ গোরকে সরাসরি আক্রমণ করে তাকে ‘সাপ’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প পরে স্বীকার করেন, গোরের পদক্ষেপে মাস্ক অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে গোর
ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সার্জিও গোরের মনোনয়ন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক বেশ জটিল। বাণিজ্যিক ও কৌশলগত নানা ইস্যুতে মতপার্থক্য বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গোরের কূটনৈতিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কতটা কাজে আসে, তা সময়ই বলবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তার আনুগত্য, মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংঘর্ষে তার অবস্থান এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া নিয়ে তার কৌশলগত ভাবনা তাকে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করতে পারে।






