
ঢাকা, ২৩ মার্চ – সারাদেশে একদিনে সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ফেনীতে তিন যানের সংঘর্ষে তিনজন, হবিগঞ্জে বাসে পিকআপের ধাক্কায় চারজন, নাটোরে এক প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জে দুই বন্ধু, সুনামগঞ্জে এক যুবক, কুষ্টিয়ায় এক স্কুলছাত্র এবং কুড়িগ্রামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে যায় এবং ১২ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
ফেনীর রামপুর এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে রোববার ভোর চারটার দিকে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানায় মহাসড়কের কাজের কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় পেছন থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। পরে দোয়েল পরিবহনের আরেকটি বাস সেখানে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে নয়ন শেখ নামের এক স্কুলছাত্র প্রাণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে নাটোরে বিয়ের ঠিক একদিন আগে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের সংঘর্ষে জুলফিকার আলী নামের এক প্রকৌশলীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে বোন ও ভগ্নিপতিকে আনতে যাচ্ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু বিজয় ও জাবির হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাফিকুল ইসলাম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাউদা খাতুন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তার বাবা মা গুরুতর আহত হয়েছেন।
এনএন/ ২৩ মার্চ ২০২৬





