সায়েন্টিফিক আমেরিকানের ‘উদীয়মান তারকা’ তালিকায় বাংলাদেশের তনিমা | চ্যানেল আই অনলাইন

সায়েন্টিফিক আমেরিকানের ‘উদীয়মান তারকা’ তালিকায় বাংলাদেশের তনিমা | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যাকে। অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর ও গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সাময়িকীটির উদ্বোধনী ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন শাখার মাত্র ২৮ জন সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষককে নিয়ে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থান পাওয়াকে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তার এই স্বীকৃতিতে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলেও আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সায়েন্টিফিক আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশিত হয়েছে এ সাময়িকীতে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠকের কাছে পৌঁছানো সাময়িকীটি চলতি বছর প্রথমবারের মতো এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাময় গবেষকদের তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Wayne State University-এ কর্মরত ড. তনিমা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হলো অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের গ্যাস ও অন্যান্য পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এ প্রকাশিত তাঁর পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা হয়েছিল শৈশবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারা দেখে মহাবিশ্ব সম্পর্কে তার মনে গভীর কৌতূহল জন্ম নেয়। সেই কৌতূহলই পরে তাঁকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পথে নিয়ে যায়।

তার গবেষণায় বিভিন্ন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার গঠন ও আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা ও গবেষণা সক্ষমতারও একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তার এ সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলেও মনে করছেন তারা।

Scroll to Top