
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত এক ভবন থেকে পোড়া লাশ উদ্ধার হওয়ার পর সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে যুবক সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সাভার মডেল থানায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট এসব হত্যার সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার সাভার পৌর এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সি সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার প্রয়াত সালামের ছেলে এবং এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট প্রথমে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে হাত-পা বেঁধে এক যুবককে হত্যা করেন। ১১ অক্টোবর রাতে একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (৩০) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে থানা রোড়ে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পোড়া লাশ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ওই স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট একজনের লাশ কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত চলছে। তবে নিহত পাঁচজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আরাফাতুল ইসলাম আরও জানান, গত বছরের ৪ জুলাই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সাভার মডেল মসজিদ সংলগ্ন অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধার (৭৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বৃদ্ধার নাতি মো. মিঠু মিয়া লাশটি শনাক্ত করেন। নিহতের নাম ছিল আসমা বেগম।
দুই দিন পর সাভার মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, ওই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, এই হত্যাকাণ্ডেও সম্রাট জড়িত।
এনএন/ ২০ জানুয়ারি ২০২৬





