দুর্গের ভেতরে পা রাখতেই মনে হলো সময় যেন উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করেছে।
এক দিন এই পথেই হেঁটেছেন স্প্যানিশ গভর্নররা। এই চত্বরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে সেনাদের বুটের শব্দ। আমেরিকান পতাকা উড়েছে এই প্রাচীরের ওপর। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকায় জাপানি সৈন্যদের পদচারণে কেঁপে উঠেছে মাটিও। কামানের গোলা আর বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এই প্রাচীন দেয়াল। মাটির নিচের অন্ধকার কারাগারগুলো শুনেছে রাজবন্দীদের আর্তনাদ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সৈনিকদের শেষ প্রার্থনা।
সান্তিয়াগো দুর্গ তাই কেবল একটি সামরিক বা প্রশাসনিক স্থাপনা নয়। এটি যেন ইতিহাসের এক নীরব সমাধিক্ষেত্র, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আটকে আছে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন, বেদনা আর অপূর্ণ আর্তি। কখনো কখনো মনে হয়, সন্ধ্যার বাতাসে আজও ভেসে আসে সেই অতৃপ্ত আত্মাদের দীর্ঘশ্বাস।
ফিলিপাইনের ইতিহাসও এই দুর্গের মতোই দীর্ঘ, বেদনাময় এবং নাটকীয়।
৫০০ বছর আগে আজকের ফিলিপাইন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূখণ্ড। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানকার বহু দ্বীপও মুসলিম শাসনের অধীন ছিল। সেবু, মিন্দানাও, ম্যানিলা, সুলু, ব্রুনেই ও মালয় জগতের সঙ্গে তখন ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ম্যানিলার ওপর শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম শাসক রাজা তৃতীয় সুলাইমান।

