
ঢাকা, ৫ জুলাই – সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কোনো সভা, সেমিনার বা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিলবোর্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রচারসামগ্রীগুলোতে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য এবং জনকল্যাণমূলক বার্তাকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার ওপর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়।
পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মূল নির্দেশনাগুলো:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে প্রধানত দুটি বিষয়কে কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: সরকারি কোনো কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রস্তুত করা কোনো ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি (তা সাধারণ ছবি, থ্রিডি অ্যানিমেশন কিংবা অন্য যেকোনো আঙ্গিক বা নকশাতেই হোক না কেন) কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
বিষয়বস্তু ও বার্তাকে প্রাধান্য: প্রচারসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ছবির পরিবর্তে অনুষ্ঠানের মূল থিম বা বিষয়বস্তুকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। নকশা বা ডিজাইন এমনভাবে করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ব্যানারটি দেখামাত্রই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্যমূলক বার্তা এবং প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন।
“অনতিবিলম্বে কার্যকর”— কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, প্রচারণায় পরিমিতিবোধ বজায় রাখা এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণার চেয়ে কাজের মূল উদ্দেশ্যকে জনগণের সামনে নিয়ে আসতেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নির্দেশনা অনতিবিলম্বে (আজ থেকেই) কার্যকর হবে। এরপর থেকে দেশের কোথাও সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে বা ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা আয়োজক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও বিশ্লেষকেরা। এর ফলে সরকারি প্রচারণায় এক ধরনের পেশাদারিত্ব আসবে এবং অপ্রয়োজনীয় চাটুকারিতার সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।
এনএন/ ৫ জুলাই ২০২৬






