বেসিকভিত্তিক বেতনকাঠামো এখন কোনো দেশে নেই। আমাদের সরকারি কর্মচারীদের বেতন জিজ্ঞেস করলেই বলবেন, আমাদের বেসিক বেতন এত, এই টাকাতে কীভাবে চলি? আসলেই বেসিক কম দেখায়। কিন্তু ওই টাকার সঙ্গে যে ভাতা পান, তা কি বেতন না?
বিশ্বজুড়েই বেতনকাঠামো করা হচ্ছে সিটিসি বা কস্ট টু কোম্পানি কনসেপ্টে। এখানে হবে সিটিজি মানে কস্ট টু গভর্নমেন্ট। যেমন কোম্পানিতে সিটিসি, তেমনি সরকারে সরকারের মোট ব্যয় হিসাব। একজন চাকরিজীবী সারা বছর মোট যে পরিমাণ বেতন–ভাতা এবং সুবিধা পান, তা এক মাসে নিয়ে আসা। আমি নিচে একটা ড্রাফট উদাহরণ দিচ্ছি।
১. মূল বেতন—মাসিক বেতনের মূল অংশ, যার ওপর অন্য ভাতাগুলো নির্ভর করে।
২. বাসাভাড়া ভাতা—সাধারণত মূল বেতনের ৩০%-৫০% পর্যন্ত হতে পারে।
৩. চিকিৎসা ভাতা—নির্দিষ্ট পরিমাণ বা প্রকৃত খরচ অনুযায়ী প্রদান করা হয়।
৪. যাতায়াত ভাতা—অফিসে আসা-যাওয়ার খরচের জন্য।
৫. বিশেষ ভাতা—অফিস নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা। মহার্ঘ ভাতার মতো সব ভাতাও এর মধ্যে আসবে।
৬. প্রভিডেন্ট ফান্ড, সাধারণত বেতনের ১০% কর্মী ও ১০% প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে জমা হয়। কোম্পানির অংশটি সিটিসির অন্তর্ভুক্ত।
৭. গ্র্যাচুইটি, নির্দিষ্ট সময় চাকরি শেষে কর্মীকে প্রদেয় এককালীন সুবিধা মাস হিসাবে ভাগ করে ধরা হয়।
৮. বোনাস, সাধারণত বছরে দুইবার (ঈদ/বছর শেষ) বোনাস মোট পরিমাণকে ১২ দিয়ে ভাগ করে দেওয়া হয়। সরকারি ক্ষেত্রে বৈশাখী বোনাস যুক্ত হবে।
৯. ইনস্যুরেন্স, কর্মীর জন্য কোম্পানি যেকোনো বিমা করলে, তার প্রিমিয়াম। এটা সরকারিতে না থাকলে ধরা উচিত।
১০. অব্যবহৃত ছুটি ভাতা, অব্যবহৃত ছুটির আর্থিক মূল্য হিসাবে যোগ হয়।
১১. পেনশনকে মাসের খরচে ভাগ করে দেওয়া হয়।
১২. অন্যান্য কোনো সুবিধা যেমন গাড়ির খরচ, খাওয়ার খরচ ইত্যাদি।



