সবাইকে চমকে দিয়ে বঞ্চিত চিকিৎসকদের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

সবাইকে চমকে দিয়ে বঞ্চিত চিকিৎসকদের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

অন্যান্য দিনের মতো সচিবালয় থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বের হচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা, গাড়িবহর চলা শুরু করেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সচিবালয়ের নতুন এক নম্বর ভবন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে উল্টো দিকে দাঁড়ানো একদল চিকিৎসকের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি কথা বললেন পদোন্নতি বঞ্চিত ১৮১১ জন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার প্রতিনিধির সঙ্গে।

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয় প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত আচরণে উপস্থিত চিকিৎসকরা রীতিমতো চমকে যান।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ১৮২১ জন চিকিৎসক তাদের দাবি নিয়ে সচিবালয়ে এসেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও যোগাযোগ করেন।

পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তার বের হওয়ার পথে অপেক্ষা করতে থাকেন। তখন প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখে এগিয়ে যান এবং অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। এসময় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ডা. বর্ণালী তাদের দীর্ঘ বঞ্চনা, এসবি রিপোর্টের জটিলতা এবং কর্মজীবনে স্থবিরতার বিষয়টি তার সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আমার পক্ষ থেকে কিছু করার থাকলে দেখব। প্রধানমন্ত্রীর এমন হস্তক্ষেপে আপ্লুত চিকিৎসকরা। আন্দোলনের প্রতিনিধিরা জানান, আমরা কল্পনাও করিনি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের মতো সাধারণ কর্মকর্তাদের কথা শুনতে গাড়ি থেকে নেমে আসবেন। তার এই সহানুভূতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন আমাদের বিশ্বাস জন্মেছে যে দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান হবে।

পদোন্নতিবঞ্চিত ২৮বিসিএসের ডা. মো. মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সব ধরণের যোগ্যতা, চাকরির বয়স হওয়ার পরও নানা অজুহাতে ১৮১১ জন চিকিৎসককে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেক জুনিয়ররা পদোন্নতি পেলেও আমরা পদোন্নতি পাইনি। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে আমরা পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কেউ আমাদের সমস্যার সমাধান করেননি। আশা করি মানবিক প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে আমাদের সমস্যা শুনেছেন। এতে আমাদের বুকটা ভরে গেছে। আমরা এখন আশাবাদী যে সমস্যার সমাধান হবে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

যে দাবি নিয়ে সচিবালয়ে চিকিৎসকরা?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে ১৮২১ জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের অনেকেরই চাকরির বয়স ১৮ বছরের বেশি। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং প্রয়োজনীয় সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা বলেন, যোগ্যতা থাকার পরও পদায়ন নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ফিটলিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া এসবি রিপোর্টের জটিলতারও অভিযোগ করে তানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এসব কর্মকর্তার এসবি রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে সময়মতো পৌঁছায়নি বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পদোন্নতি থমকে থাকায় পেশাগত মনোবল হারিয়ে ফেলছেন চিকিৎসকরা, যা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যসেবায় প্রভাব ফেলছে।

Scroll to Top