স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাজউদ্দীন আহমদ ও শেখ মুজিবের মধ্যে মতবিরোধের চারটি কারণ তুলে ধরেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। প্রথমত, তাজউদ্দীন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৭২ সালে দালাল আইন পাসের পর শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাংক তথা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়ার প্রশ্নে দ্বিমত দেখা দেয়। তৃতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের তাজউদ্দীনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হয়ে পরিবর্তে রক্ষীবাহিনী গঠিত হয়, যা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। চতুর্থত, একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
বক্তব্যে তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়, বিশেষত ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, যে অল্প কয়েকজন রাজনীতিকে সার্বক্ষণিক কাজ ও চিন্তা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তাজউদ্দীন ছিলেন তাদের অন্যতম। ভেতরের সংবেদনশীলতা, কর্তব্যজ্ঞান আর দায়িত্ববোধের তাড়না থেকে রাজনীতিতেই যোগ দেন তিনি।

