শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেসময় অভিনেতা আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছিলেন।
ইকরার মৃত্যুর খবর চাউর হওয়াার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলভীর সাথে তার দাম্পত্য কলহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ইকরার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পরিচয়ে সংবাদমাধ্যমেও একাধিক নারী অভিযোগ করেন যে, আলভী একজন অভিনেত্রীর সাথে সম্পর্কে আছেন, যে বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না তার স্ত্রী ইকরা।
ইকরার বান্ধবীদের দাবি, আলভীর সাথে সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে তাদের সাথে গ্রুপ চ্যাটে কথা বলতেন ইকরা। এমনকি যেদিন আত্মহত্যা করেন, সেদিন সকালেও গ্রুপে আলভীকে নিয়ে কথা বলেন ইকরা। ইকরার এক বান্ধবী জানান, ইকরা আত্মহত্যা করার মতো মেয়েই নয়। কী পরিমাণ কষ্ট আলভী দিয়েছে, যে কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, তা জানা দরকার।
ইকরার একাধিক বান্ধবী বলেন,“আত্মহত্যার আগ মুহূর্তের ওই সময়টায় ফোনে আলভী কী এমন বলেছিল যে ইকরা তা সহ্যই করতে পারেনি! আমরা আসলে কেউই কিছুই জানি না। এটা অবশ্যই জানা দরকার।”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছিলেন।
ইকরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ইকরার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পরিচয়ে কয়েকজন নারী সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, আলভী একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তাদের দাবি, বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না ইকরা এবং এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
বান্ধবীদের আরও দাবি, আলভীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে ইকরা তাদের সঙ্গে একটি গ্রুপ চ্যাটে কথা বলতেন। এমনকি ঘটনার দিন সকালেও তিনি আলভীকে নিয়ে কিছু কথা বলেন। এক বান্ধবীর ভাষ্য, “ইকরা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষ ছিলেন না। কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা জানা দরকার।”
রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। পরদিন সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রায় আধ ঘণ্টার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন আলভী। সেখানে তিনি ঘটনার আগে ইকরার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের বিষয়ে কথা বলেন।
এসময় তিনি জানান, আত্মহত্যার আগ মুহূর্তে ইকরার সাথে সবশেষ কী কথা হয় তার! এ বিষয়ে আলভী বলেন, “অনেকের মনে প্রশ্ন, ইকরার সাথে আমার শেষ ভিডিও কলে এমন কী কথা হয়েছে, যার জন্য সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে! ওর সাথে ২২ সেকেন্ডের একটা ভিডিও কল ছিলো, ও আমাক কল দিয়েছে, আমি কলটা ধরেছি। ও আমাকে বলেছে ‘আমাকে শেষবারের মতো দেখে নে, আমারে জীবনে আর কোনোদিন দেখবি না।’ ওর এই কথাটা শোনার পর আমি ঘাবড়ে গেছি, ভয় পেয়ে গেছি। আমার মনে হয়েছে, নিশ্চয় কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটবে। আমি সাথে সাথে আমি আমার সহকারীকে কল দিয়েছি, বলেছি- তোর ম্যাডাম একটু পাগলামি করতেছে, দ্রুত তোর ম্যাডামের খোঁজ নে। ওর সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার মধ্যেই মেসেঞ্জারে আবার ইকরার নাম্বার থেকে ভিডিও কল আসে। সহকারীর সাথে কথা বলতে বলতে ইকরার কলটি তখন রিসিভ করতে পারিনি, ততক্ষণে আমার সহকারী ইকরার রুমের এখানে উপস্থিত হয়। আমি তখন সাথে সাথে ইকরাকে মেসেঞ্জারে আবার কল ব্যাক করেছি, তারপর ওইখান থেকে কল আর কখনো রিসিভ হয়নি।”
ইকরার পরিবারের অভিযোগ, আলভী অন্য একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তাদের দাম্পত্য কলহের শুরু। এ কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পরবর্তীতে ইকরার পরিবার আলভী, তার মা এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


