এবারের পরীক্ষার ফলের আরেকটি ব্যাপার বেশ আশঙ্কাজনক। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পাস করা শিক্ষার্থীদের অন্তত অর্ধেক জিপিএ–৩-এর নিচে পেয়েছে। শিক্ষা বোর্ড–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জিপিএ–২ থেকে ৩ কিংবা ন্যূনতম জিপিএ নিয়ে যারা পাস করেছে, তাদের বড় অংশ গ্রামের। এর মধ্যে দরিদ্র এলাকায় এমন ফল বেশি দাবি করে তাঁরা এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বাস্তবতাও এটা বলে, দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আলাদা করে কোচিং-প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায় না কিংবা প্রায় ক্ষেত্রেই ভালো শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পায় না। দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম তাদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতের ফলাফলেও গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য দেখা গেছে; কিন্তু তা কমানোর জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও এবার ব্যবধান বেড়েছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে কম, ৪৯ শতাংশের নিচে। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলও মানবিকের তুলনায় ভালো, গড়ে ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হারে তা প্রভাব ফেলেছে। স্কুলগুলোতে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে সবচেয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ প্রবণতা চলে আসছে।