শেখ হাসিনার মামলার রায়ে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে: মাহাদী আমিন

শেখ হাসিনার মামলার রায়ে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে: মাহাদী আমিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মুখপাত্র মাহাদী আমিন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়ে আজ গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে মাহাদী আমিন লিখেছেন, ‘এটি শুধুই একটি রায় নয়, বরং বহুল প্রত্যাশিত ও সর্বজনীন ন্যায়বিচার, যার প্রতীক্ষায় ছিল দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল। এই রায়ের সঙ্গে মিশে আছে আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আমাদের হাজার-হাজার ভাই-বোন এবং তাদের পরিবারের বলিদানের ইতিহাস।’

তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস আলী থেকে চৌধুরী আলম, নুরুজ্জামান জনি থেকে নুরুল আলম নুর, সাগর–রুনি থেকে মুশতাক আহমেদ, আবরার ফাহাদ থেকে বিশ্বজিৎ দাস, বিডিআর হত্যাযজ্ঞ থেকে শাপলা গণহত্যা, গান পাউডার থেকে অগ্নিসন্ত্রাসে পুড়িয়ে মারাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার প্রতিটি মানুষের ত্যাগ, সংগ্রাম ও হাহাকারের যে বেদনাবিধুর গল্প, এই ন্যায়বিচারে তার গভীর অনুরণন রয়েছে।

মাহাদী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৬ বছরে গুম-খুন, হামলা-মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় শিকার যে রাজনৈতিক দল, সেই বিএনপির কর্মী হিসেবে আমরা দেখেছি, ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসা নির্মম নিষ্পেষণ। আজকের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; সম্মান জানানো হয়েছে গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতিকে।

তিনি আরও বলেন, প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে যেন আর কখনো শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতভেদের কারণে, জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নামার কারণে, কাউকে শহীদ হতে না হয়, গুম হতে বা জীবন দিতে না হয়। এই বাংলাদেশে যেন আর কখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে কোনো শিশুর মৃত্যু না ঘটে, হেলিকপ্টার থেকে জনগণের উপর গুলি চালানো না হয়। রাতের আঁধারে আর কোনো বাবাকে যেন গুম করা না হয়, বিরোধী দল করার কারণে কোনো পরিবার যেন ধ্বংস না হয়।

বিএনপির মুখপাত্র আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হোক প্রতিটি স্বাধীনচেতা মানুষ ও গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের। অতীতের গ্লানি মুছে প্রতিষ্ঠিত হোক একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ; যেখানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তিটিও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। সেই বাংলাদেশে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই আইনের অনুশাসন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা। নিশ্চিত করতে চাই ভিন্ন মত, পথ ও আদর্শের সহাবস্থান, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি, ইনশাআল্লাহ।’

Scroll to Top