শিবিরের বিজয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে কি নতুন ধারার সূচনা হলো

শিবিরের বিজয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে কি নতুন ধারার সূচনা হলো

এবারের নির্বাচনের ফলাফলে যদিও ছাত্রশিবিরের প্যানেলের একক আধিপত্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তবু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং দেশের মানুষদের একটি যৌথ প্রত্যাশা রয়েছে। তা হলো নির্বাচনে বিজয়ী কিংবা পরাজিত, প্রত্যেক প্রার্থী যেন দেশের কল্যাণে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অবদান রাখেন।

যাঁরা নির্বাচনে জিততে পারেননি, তাঁরাও চাইলে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন, তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন, বিভিন্ন দাবিদাওয়া সামনে আনতে পারেন এবং প্রয়োজনে আন্দোলনেও যুক্ত হতে পারেন। একইভাবে তাঁরা বর্তমান বিজয়ীদের ভুলত্রুটি গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও প্রস্তুত করতে পারবেন এবং দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজের অংশীদার হতে পারবেন।

অন্যদিকে যাঁরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, তাঁদের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আরও বড়। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, আবাসিক সমস্যার সমাধান, ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতে অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনকেও প্রভাবিত করবে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। যেখানে জেন-জি শিক্ষার্থীদের কাছে দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও সহিংসতার ছাত্ররাজনীতি প্রত্যাখ্যাত হয়ে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতির নতুন দিক উন্মোচিত হবে।

  • এস কে তৌফিক হক প্রফেসর ও ডিরেক্টর, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • মোহাম্মাদ ঈসা ইবন বেলাল গবেষণা সহযোগী, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

* মতামত লেখকদের নিজস্ব

Scroll to Top