শেষ কথা: শিক্ষার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীর নয়
একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা তখনই সফল হয়, যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়ের চাহিদা বুঝতে হবে। সরকারকে কর্মসংস্থান ও ন্যায়সংগত নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রত্যেককে নিজের দায়িত্বের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
আমরা যদি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাই, তারা কেন ভালোভাবে পড়াশোনা করছে না, তাহলে শিক্ষকদের কাছেও জানতে চাইতে হবে, তাঁরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে জানতে চাইতে হবে, তারা কেমন মানবসম্পদ তৈরি করছে। আর সরকারের কাছে জানতে চাইতে হবে, সেই মানবসম্পদ কাজে লাগানোর জন্য কী ধরনের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার সংকটের রহস্য শুধু শিক্ষার্থীদের অনীহার মধ্যে লুকিয়ে নেই; এর একটি বড় অংশ লুকিয়ে আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিকল্পনা, পরিচালনা, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির দুর্বলতার মধ্যে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিগ্রি দেওয়া আর মানুষকে যোগ্য করে গড়ে তোলা এক বিষয় নয়। শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও এক বিষয় নয়।
আমরা যদি সত্যিই একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনের আহ্বান জানালে চলবে না। শিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং কর্মসংস্থানব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে পরিবর্তনের সাহস দেখাতে হবে।
তরুণদের শুধু বলতে হবে না, পড়াশোনা করো। রাষ্ট্রকেও প্রমাণ করতে হবে, তোমার শিক্ষা, মেধা ও পরিশ্রমের মূল্য আছে।


