শিক্ষার্থীরা যেন শিখনঘাটতিতে না পড়ে

শিক্ষার্থীরা যেন শিখনঘাটতিতে না পড়ে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম বড় পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম শুধু বাড়েইনি, বিকল্প উৎস থেকে এর প্রাপ্যতাও কঠিন ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির অভিঘাত বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। যুদ্ধের এক মাস পর এসেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ও মজুতে বড় সমস্যা তৈরি না হলেও মজুতদারি ও আতঙ্কের কেনাকাটার কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত তেল না মেলায় বোরোর সেচ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে, তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকট প্রকট হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। সে ক্ষেত্রে কৌশলগত পণ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কৌশলপত্র তৈরি করা সবার আগে প্রয়োজন। জ্বালানি সংগ্রহে বিঘ্ন তৈরি হলে অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কোন কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। বিচ্ছিন্নভাবে স্কুল-কলেজে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু করা হলে তাতে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে শিখনঘাটতি তৈরি হবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষাবিদদের পরামর্শও নেওয়া প্রয়োজন।

Scroll to Top