শতবর্ষী মানুষের সংখ্যায় ইতিহাস গড়া জাপান: প্রথমবারের মতো লাখ পার ১১২-১১৪ বছরের শতবর্ষী! – DesheBideshe



টোকিও, ১৫ সেপ্টেম্বর – চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সুবাদে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যায় নতুন এক ইতিহাস তৈরি করল জাপান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে, জাপানে ১০০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখের গণ্ডি পার করেছে। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বর্তমানে জাপানেই শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটিতে বর্তমানে মোট শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। এদের মধ্যে সিংহভাগই অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী।

জাপানের সবচেয়ে প্রবীণ নারী ও পুরুষ

  • সবচেয়ে প্রবীণ নারী: কিয়োটো শহরের বাসিন্দা কিশিমোতো ফুয়ো (বয়স: ১১৪ বছর)।
  • সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষ: কুমামোতো অঞ্চলের বাসিন্দা কাতো হিকারু (বয়স: ১১২ বছর)।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উএনো এ অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তির কারণেই মানুষের গড় আয়ু বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এত বিপুল মানুষ দীর্ঘ ও সক্রিয় জীবন পাচ্ছেন।

কেন এতো দীর্ঘজীবী জাপানিরা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি নাগরিকদের এই অভূতপূর্ব দীর্ঘায়ুর পেছনে কাজ করছে বিশেষ দুটি কারণ:

১. সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রথাগত জাপানি খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ, শাকসবজি ও ভাত থাকে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এই খাবারে ক্ষতিকর ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’-এর পরিমাণ খুবই কম।

২. দৈনন্দিন সক্রিয় জীবনযাপন: বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ার বদলে জাপানি প্রবীণরা নিয়মিত হাঁটেন, সাইকেল চালান, গণপরিবহন ব্যবহার করেন এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করেন।

সামাজিক নিরাপত্তায় বাড়ছে ভারী চাপ

দীর্ঘায়ুর এই সুখবরের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বড় এক অর্থনৈতিক চিন্তার মেঘ। জাপানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের ডায়াপারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বেশি বিক্রি হচ্ছে, যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ধাবমান এক সমাজকে নির্দেশ করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনসংখ্যার জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা বজায় রাখা জাপানের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুস্থ জীবনযাত্রার বার্তা হিসেবে ঘটনাটি দারুণ সমাদৃত হচ্ছে। উৎকৃষ্ট খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন পরিশ্রমী জীবন যে মানুষের আয়ু বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, জাপান বিশ্বের সামনে তার সেরা উদাহরণ। তবে তরুণ প্রজন্ম কমে যাওয়ার সংকট মোকাবিলা করাই এখন তাদের মূল পরীক্ষা।

এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top