চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করছে রাশিয়া।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তেহরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন মার্কিন কর্মকর্তা এ সহায়তাকে ‘যথেষ্ট ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এটি এই যুদ্ধে মস্কোর পরোক্ষ অংশগ্রহণের প্রথম সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার উন্নত স্যাটেলাইট ইমেজারি ও মহাকাশ-ভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে, কারণ ইরানের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবু গত রবিবার কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনে নিখুঁত আঘাত হেনেছে ইরান। এসব হামলার নির্ভুলতা রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার ফল।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ দারা মাসিকোট বলেন, ইরান এখন মার্কিন রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাশিয়া লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এখন অনেক দক্ষ হয়েছে। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের গবেষক নিকোল গ্রাজুয়েস্কি জানান, এবারের ইরানি হামলায় গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি কৌশলগত উৎকর্ষ দেখা যাচ্ছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে রাশিয়া ইরানকে বেছে নিয়েছে। ইরান পূর্বে রাশিয়াকে সস্তা ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছিল। এক কর্মকর্তা বলেন, রুশরা জানে আমরা ইউক্রেনীয়দের কীভাবে সাহায্য করছি। তারা এখন তার প্রতিশোধ নিতে পেরে খুশি।
তবে রাশিয়া যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। মাসিকোটের মতে, ক্রেমলিনের জন্য ইউক্রেন যুদ্ধই এখনও প্রধান অগ্রাধিকার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা রাশিয়ার অর্থনৈতিক লাভ; একইসঙ্গে পশ্চিমাদের মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যাবে।
তবে রুশ দূতাবাস এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো এই যুদ্ধকে ‘বিনা উসকানিতে আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।



