‘রোজায় কম দামে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির পরিকল্পনা’

‘রোজায় কম দামে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির পরিকল্পনা’

উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় হাড় কাঁপানো শীতে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা নেই সূর্যের। কনকনে তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

নতুন বছরের শুরুতেই শীত জেঁকে বসায় গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। উষ্ণতার জন্য শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে সব ধরনের গরম পোশাকের দোকানে ভিড় দেখা যায়।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, বগুড়ার হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে নিম্নআয়ের মানুষের উপচে পড়া ভিড়। 

শহরের সাতমাথায় ফুটপাতের ধারে জ্যাকেট, সোয়েটার ভ্যানে নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ী করিম। তিনি চট্রগ্রাম থেকে শীতের পোশাক এনেছেন। প্রতি পিস ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

তিনি ডাকছেন, ‘বাইছা লন, দেইখ্যা লন যা লইবেন ২০০ টাকা’। প্রতিদিন ১০০ পিসের বেশি বিক্রি হচ্ছে তার। ব্যবসায়ী আজগর আলি সৈয়দপুর থেকে গরম পোশাক নিয়ে এসেছেন। প্রতি পিস ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি ১০ থেকে ২০ টাকা লাভে পণ্য ছেড়ে দেন। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ পিস বিক্রি হচ্ছে।

শীতের জ্যাকেট, টুপি, সোয়েটার নিয়ে সাতমাথা এলাকায় বসেছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ব্যবসায়ী। মার্কেট এবং ফুটপাতের সব দোকানের সামনেই ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। ফুটপাতগুলোয় নিম্নবিত্তের চেয়ে মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যাই বেশি।

মরজিনা নামের এক ক্রেতা বলেন, এক হাজার টাকায় দুই মেয়ে ও তার নিজের জন্য শীতের পোশাক কিনেছেন। শহরের বড় শো রুমে বা মার্কেটে ঢুকলে এই পোশাক কেনা লাগতো ৫-৬ হাজার টাকা। আমার পক্ষে তা খুব কঠিন হয়ে যেতো। তাই আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য ফুটপাতই ভালো।

বগুড়া শহরের নাটাই পাড়ার আলিম নামে এক ক্রেতা বলেন, এবার শীত অনেক বেশি। শহরের হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোয় একটু কম দামেই শীতের কাপড় পাওয়া যায় বলে এখানে আসা। বাচ্চার জন্য কাপড় নিতে এসেছি। এই শীতে যেন বাচ্চাদের অসুখ না হয় তাই গরম কাপড় কিনতে এসেছি।

‘রোজায় কম দামে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির পরিকল্পনা’

রং মিস্ত্রি মামুন বলেন, এই শীতে কামায় কাজি নেই, সাতদিনের ইনকামের টাকায় পরিবার ও নিজেদের জন্য ফুটপাত থেকে শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। ফুটপাতে যে শীতের কাপড় কিনতে পারছি আমরা, এটাই আমাদের মতো গরীবের জন্য অনেক। কম দামের পুরাতন পোশাকে একটু-আধটু সমস্যা থাকে। তাই দেখেশুনে কিনতে হচ্ছে।

বগুড়া শহরের হকার্স মার্কেট ও ফুটপাত দোকানের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দোকানে কম দামে বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে জ্যাকেট, সোয়েটার, পারকার, চাদর বেশি বিক্রি করছেন তারা। যে কারণে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। শীতের পোশাকগুলো বিদেশ থেকে বেল আকারে আসে। আবার দেশের অনেক গার্মেন্টস থেকে স্বল্পমূল্যে গরম পোশাক নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। স্বল্পমূল্য হওয়ায় নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদা থাকে এসব কাপড়ের প্রতি।

বগুড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেটের গার্মেন্ট পল্লী ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিজের দোকানের প্রায় এক কোটি টাকার কাপড় বিক্রি করেছেন। মার্কেটে অন্তত ২০০টি শীতের পোশাকের দোকান রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি টাকার বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আসা কাপড়ের বেলের দাম বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি বেলে তাদের ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। সেই তুলনায় শীতের পোশাকের দাম বাড়েনি।

Scroll to Top