
ঢাকা, ১৩ মে – দেশের অর্থনীতির আকাশে যখন কালো মেঘের আনাগোনা, ঠিক তখনই আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠলেন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। চলতি মে মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে অভাবনীয় গতি লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশেরও বেশি! ডলার সংকটের এই কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি তথ্যমতে, মে মাসের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয়: ১৬০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার ৭০১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। শুধু গত মঙ্গলবারই (১২ মে) দেশে ২ হাজার কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে বিস্ময়কর ৪১.৬০ শতাংশ। প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন, যা এই বিশাল প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১২ মে পর্যন্ত) সামগ্রিক পরিসংখ্যানও বেশ আশাব্যঞ্জক। চলতি অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় ৩ হাজার ৯৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৫৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ২০.৫০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দামের নতুন সমন্বয় (ক্রলিং পেগ পদ্ধতি) এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা প্রণোদনা প্রবাসীদের আগ্রহী করে তুলেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের আয় বাড়ার প্রভাবও এখানে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে: “রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে এবং আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খুব দ্রুতই দেশের ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬






