
নয়াদিল্লি, ৪ সেপ্টেম্বর – রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য বন্ধ করলেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটবে এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের সমাধান পণ্য বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বরং সংলাপ, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব বলে ভারত মনে করে।
ইউক্রেন সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জয়শঙ্কর। এ সময় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের প্রসঙ্গ উঠে আসে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, কোনো রাষ্ট্র তেল, অ্যালুমিনিয়াম বা খনিজ পণ্য ক্রয় করছে কি না তার ওপর যুদ্ধের সমাধান নির্ভর করে না। সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথেই এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি চাহিদার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৪০ কোটি মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে ইউক্রেনের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও ভারতের অবস্থানের প্রতি অন্যদের সম্মান দেখানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য থেকে আয় কমিয়ে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মার্কিন সিনেটে এমন একটি বিল পাস হয়েছে যেখানে রাশিয়ার তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এস জয়শঙ্কর ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে এই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে রাশিয়া।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর ইউরোপের বাজার সংকুচিত হলেও ভারত ও চীনের মতো এশীয় দেশগুলোর চাহিদা রাশিয়ার তেল রপ্তানি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এনএন/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলে কি ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে?
এস জয়শঙ্করের মতে, শুধু রাশিয়ার তেল বা অন্যান্য পণ্য কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধের সমাধান হবে না। তাঁর মতে, সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান সম্ভব।
কিয়েভে জয়শঙ্কর কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন?
তিনি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
ভারত কেন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে?
ভারত তার বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। রাশিয়ার তেল গত কয়েক বছরে ভারতীয় আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং ২০২৬ সালে এর অংশ কিছু মাসে মোট আমদানির অর্ধেকেরও বেশি ছিল।
মার্কিন রাশিয়া-নিষেধাজ্ঞা বিল কি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক ইতিমধ্যেই বসিয়েছে?
না। মার্কিন সেনেট বিলটি পাস করেছে, কিন্তু সেটি নিজে থেকে শুল্ক কার্যকর করে না। বিলটি হাউসে অনুমোদিত হয়ে আইনে পরিণত হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের প্রশ্ন আসবে।
জয়শঙ্কর যুদ্ধের সমাধানের জন্য কী পথের কথা বলেছেন?
তিনি সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনা—এই তিনটিকেই সংঘাতের সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।




