রান্না শুধু খাবার নয়, বাংলাদেশের গল্প বলারও ভাষা: মাস্টারশেফ ইউকের সেমিফাইনালিস্ট সাবিনা খান

এটা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বপ্ন।

বাংলাদেশে অনেক নারী আছেন, যাঁরা অসাধারণ রান্না করেন। কিন্তু তাঁদের অনেকের নিজের ব্যবসা শুরু করার সাহস নেই। কেউ ক্যাটারিং করতে চান, কিন্তু জানেন না কীভাবে শুরু করবেন। কেউ হয়তো রান্না করেন খুব ভালো, কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাসটা নেই।

আমি চাই তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে। শুধু রান্না শেখানো নয়, কীভাবে নিজের কাজকে ব্যবসায় পরিণত করা যায়, কীভাবে ক্যাটারিং শুরু করা যায়, কীভাবে নিজের খাবারকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হয়—এসব নিয়েও কাজ করতে চাই।

কারণ একজন নারী যদি নিজের রান্নার দক্ষতা দিয়ে আয় করতে পারেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে সেটি শুধু তাঁর নিজের জীবনই বদলায় না, তাঁর পরিবারের জীবনও বদলে যায়।

আপনার রান্নার দর্শনের সঙ্গে ব্যায়াম ও ফিটনেসেরও একটা গভীর সম্পর্ক আছে।

অবশ্যই। ব্যায়াম আমার রান্নার মতোই আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আমার স্বামী মজা করে প্রায়ই বলেন, আমার মেজাজ খারাপ থাকলে, ‘আজ কি তুমি ব্যায়াম করেছ?’

আমি তখন হেসে ফেলি। কারণ অনেক সময় সত্যিই দেখি, সেদিন ব্যায়াম করা হয়নি!

আমি ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করি না। পাতলা হওয়ার জন্যও করি না। আমি ব্যায়াম করি মানসিক সুস্থতার জন্য।

আমি যখন পার্কে দৌড়াই বা ট্রেডমিলে দৌড়াই, তখন সেটা আমার নিজের সময়। আমি চিন্তা করি, শান্ত হই, নতুন আইডিয়া পাই। দৌড়ানোর সময় অনেক সময় রান্নার নতুন ধারণাও মাথায় আসে।

আমার কাছে ব্যায়াম আর রান্না পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। আমি যে খাবার রান্না করছি, সেটা যেন আমার শরীরের জন্য ভালো হয়। আবার শরীর ও মন ভালো রাখার জন্যও আমি ব্যায়াম করি।

এখানে একটা ভুল ধারণা আছে—কেউ বেশি ব্যায়াম করলে নাকি সে রান্না করতে পারে না! এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। বরং আমার ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো।

আপনি এখন ৫০ বছর বয়সে এসেও যে জীবনযাপন করছেন, সেটি তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে শক্তিশালী রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

আমি এখন ৫০ বছর বয়সী। আমার সন্তানরা যে ভারী জিনিস অনেক সময় তুলতে পারে না, আমি অনায়াসে তুলতে পারি। বাজারে গিয়ে বড় বড় ব্যাগ নিয়ে আসি।

এটাই ফাংশনাল ফিটনেস।

আপনাকে আমার মতো দৌড়াতে হবে না। হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, ওজন নিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে শরীরকে সচল রাখা খুব জরুরি।

কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী শরীর শুধু দেখতে ভালো লাগার বিষয় নয়, নিজের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকারও অংশ।

Scroll to Top