এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর উত্তরার ভবনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে পুলিশ বলছে রান্নাঘরের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগতে পারে।
বাসার আগুনে হতাহতের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস বলছে ধোঁয়াই বড় ঘাতক। এতে মানুষ অজ্ঞান হয়ে পরে। বের হবার সুযোগ পায় না।
উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন-ফজলে রাব্বি রিজভী, আফরোজা আক্তার, ফাইয়াজ, রোদেলা আক্তার, মো. হারিছ ও মো. রাহাব।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বলেন: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে ফায়ার সার্ভিস তাদের প্রাথমিক তদন্তে ভবনের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কথা উল্লেখ করেছে। বাসার আগুনে কেন এতো হতাহত ? এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, অবহেলা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা আর প্রস্তুতির অভাব মিলেই বাসার আগুনকে প্রাণঘাতী করে তোলে।
বাসার আগুনে হতাহত হওয়ার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ কাজ করে। সেগুলো হলো —ধোঁয়া। আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানুষ দ্রুত অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সরু সিঁড়ি থাকা যা ধোঁয়া বা আগুনে আটকে গেলে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি ও গ্যাস লিকেজ। যাতে নিম্নমানের তার, ওভারলোড, পুরোনো গ্যাস লাইন এসব থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বাসায় ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা স্মোক অ্যালার্ম নেই। রাতে বা ভোরে আগুন লাগলে সবাই ঘুমিয়ে থাকে ধোঁয়া টের পেতেই দেরি হয়ে যায়।
পুলিশ এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে তিনজনের লাশ উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে, দুজনের লাশ উত্তরার অন্য দুটি হাসপাতালে এবং সর্বশেষ একজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আহতের সংখ্যা নির্ধারণে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সবশেষ তথ্য বলছে তিনজনের মৃত্যু আর আর ১৩ জন আহত।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পেয়ে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো হয়।





