রমজানে নবীজি যেভাবে দান–সদকা করতেন

রমজানে নবীজি যেভাবে দান–সদকা করতেন

যে ব্যক্তি কাজা রোজা বিলম্বিত করে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, তাকে কাজার পাশাপাশি মিসকিনকে খাদ্যদান করতে হয়—এমন মত অধিকাংশ আলেমের। এতে স্পষ্ট হয়, রোজা ও দান পরস্পর সম্পূরক; একটির ঘাটতি অন্যটির মাধ্যমে পূরণযোগ্য।

অষ্টমত, রোজা মানুষকে ক্ষুধার অভিজ্ঞতা দেয়—যা ধনীর হৃদয়ে দরিদ্রের প্রতি সহমর্মিতা জাগায়। যখন একজন রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাদ্য-পানীয় ত্যাগ করে, তখন ইফতারের সময় অন্য রোজাদারকে খাদ্যদান করা তার ত্যাগের অংশীদার হওয়া।

এ সময় খাদ্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিঃস্বার্থতার এক অনন্য প্রকাশ। এর মাধ্যমে খাদ্য নামক নেয়ামতের মূল্য উপলব্ধি হয় এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। এক সালাফ বলেছেন—রোজার বিধান এসেছে যেন ধনী ব্যক্তি ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে এবং কখনো ক্ষুধার্তকে ভুলে না যায়।

রমজানে নববি দানশীলতার বৃদ্ধি ছিল কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং তা ছিল গভীর প্রজ্ঞা ও তত্ত্বসমৃদ্ধ এক কর্মপন্থা। এতে রয়েছে সওয়াবের বহুগুণ বৃদ্ধি, অন্যের ইবাদতে অংশীদারত্ব, আল্লাহর রহমত লাভ, জান্নাতের নিশ্চয়তা, পাপমোচন, ত্রুটির কাফফারা এবং মানবিক সহমর্মিতার বিকাশ।

রমজান যেন এক সমন্বিত প্রশিক্ষণশালা—যেখানে রোজা আত্মসংযম শেখায়, নামাজ আত্মসমর্পণ শেখায়, আর সদকা শেখায় মানবপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ।

যে ব্যক্তি রমজানে রোজার সঙ্গে দানকে যুক্ত করে, সে প্রকৃত অর্থে নববি আদর্শ অনুসরণ করে। তার জীবন আলোকিত হয় ত্যাগ, দয়া ও নেকির সমন্বয়ে। এভাবেই রমজানের দানশীলতা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয় এবং তাকে জান্নাতের পথে অগ্রসর করে।

আহমাদ সাব্বির : আলেম ও লেখক

Scroll to Top